আগামী আগস্ট থেকে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। ভর্তি যুদ্ধ চলবে ডিসেম্বর-জানুয়ারি পর্যন্ত। টানা ছয় মাস ধরে ভর্তি কার্যক্রমের মধ্যে থাকবে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা।
এইচএসসির ফল প্রকাশের উচ্ছ্বাসের পর এবারও নতুন করে শঙ্কা ভর করছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। ৩৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫০ হাজার আসনের বিপরীতে ভর্তি যুদ্ধে অংশ নেবে অন্তত ৬ লাখ শিক্ষার্থী। একদিকে যেমন ভর্তির প্রতিযোগিতার যুদ্ধ, অন্যদিকে যাতায়াতের হয়রানি। যেতে হবে দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে। ভোগান্তি যেন সীমাহীন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরীক্ষায় অংশ নিতে শিক্ষার্থীকে যেতে হবে চট্টগ্রামে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার জন্য যেতে হবে রাজশাহী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার জন্য যেতে হবে কুষ্টিয়ায়, আবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে যেতে হবে সিলেটে। এই যাতায়াতের ভোগান্তি এবারও থাকবে।
ভর্তির সুযোগ পেতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিন্ন ভিন্ন ভর্তি ফরম, এমনকি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে একাধিক ইউনিটের ফরম কিনে পরীক্ষা দিতে হবে ভর্তিচ্ছুদের। তবে এবার থেকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে হয়রানির শিকার হতে হবে না। এবার থেকেই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা হবে।
২০১০ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রস্তাব করেছিল মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার মতো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলাতেও ক্লাস্টার বা গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়ার। ৯ বছর পেরিয়ে গেছে এখনো এই ধরনের ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। রাষ্ট্রপতির পরামর্শ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুরোধও রাখেনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। অভিযোগ রয়েছে, ফরম বিক্রি বাবদ আয় করা কোটি কোটি টাকাই গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষায় আগ্রহী না হওয়ার অন্যতম কারণ।
চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকে এ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হচ্ছে না । তবে আগামী বছর থেকে হবে এমন আশার বাণী শুনিয়েছেন উপাচার্যরা।
এবার ১০ শিক্ষা বোর্ডে ৯ লাখ ৮৮ হাজার শিক্ষার্থী বিভিন্ন গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়। এর মধ্যে জিপিএ-৫ ধারী ৪৭ হাজার ২৮৬ জন, জিপিএ- ৪ থেকে ৫ এর নিচে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭০০, জিপিএ-৩ দশমিক ৫ থেকে ৪-এর নিচে ২ লাখ ১২ হাজার ১৪৭ এবং জিপিএ-৩ থেকে ৩ দশমিক ৫-এর নিচে রয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৮৯৪ শিক্ষার্থী।
তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৩৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৫০ হাজার আসন রয়েছে। মেডিক্যাল ও ডেন্টালে আসন রয়েছে ৫৯ হাজার ৭৭০টি আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মাদ্রাসাগুলোতে ৫৮ হাজার ১৯৬ আসন রয়েছে।
প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে আসন প্রায় ৮ হাজার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ২০০, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১১০০, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় আড়াই হাজার, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন দেড় হাজারের বেশি। আসন সংকট থাকায় সব মেধাবীরাও পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে না। গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আসন প্রতি শিক্ষার্থী ছিল ৩৮ জন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন প্রতি শিক্ষার্থী ছিল ৬৮ জন, শাহজালার বিজ্ঞান ও প্রযুুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন প্রতি শিক্ষার্থী ছিল ৪৭ জন।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যালে কলেজ সবার প্রথম পছন্দের। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পেলে দ্বিতীয় পর্যায়ে পছন্দের তালিকায় রয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের ১০৪টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৯৩টিতে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসন রয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কলেজগুলোতে আসন ৬ লাখ ৩১ হাজার। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অন্তত ১০টি কলেজ রয়েছে যেগুলো শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে।
