হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় আট সদস্যের ডগ স্কোয়াড টিম কাজ শুরু করেছে। ডগ স্কোয়াডের সদস্যরা মূলত মাদক ও বিস্ফোরক পদার্থ শনাক্ত করবে। জার্মান শেফার্ড ও ল্যাব্রাডর, বেলজিয়াম মেলানিয়াস জাতের কুকুরগুলো দুই বছর আগে ব্রিটিশ পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছে। যখন কুকুরগুলো বাংলাদেশে পৌঁছে তখন তারা ছিল বাচ্চা। আমেরিকান দূতাবাসের সহযোগিতায় দীর্ঘ দেড় বছর ধরে প্রশিক্ষণে কুকুরগুলো এখন ‘দক্ষ’ হিসেবে বড় হয়ে উঠেছে। আর তাদেরকে দেখভালের জন্য আমর্ড পুলিশের ১৮ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যাদের বলা হয় ডগ হ্যান্ডলার। আমেরিকান দূতাবাস এপিবিএনকে বিশেষভাবে সহায়তা করেছে। কুকুরগুলোকে বিস্ফোরক ও মাদক শনাক্তের ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে তারা সফলও হয়েছে। পাশাপাশি এক্সক্লুসিভ বিষয়েও টহল করানো হয়েছে। আগামীতে আট সদস্যের সঙ্গে আরো আটটি কুকুর যুক্ত হবে। একজন কর্মকর্তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে বিমানবন্দরেই (জসীমউদ্দীন রোডে) ডগের থাকার ঘর তৈরি করা হয়েছে। ডগের খাবার তৈরির জন্য রয়েছে একজন বিশেষ সেফও । এসব তথ্য জানিয়েছেন বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের (এপিবিএন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন্স অ্যান্ড মিডিয়া) আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সরঞ্জাম কেনা সময়ের দাবি। সেই ক্ষেত্রে ডগ স্কোয়াডের সংযোজন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বাড়াবে বলে মনে করি।
তিনি আরো বলেন, কুকুরগুলোর নামে পাসপোর্টও করা হয়েছে। আমরা ২০১০ সালের ১ জুন থেকে বিমানবন্দরে কাজ করছি। বর্তমানে ১ হাজারের মতো জনবল আছে। থার্ড টার্মিনাল হলে আরো ৫০০ জনবল লাগবে। সেগুলো হলে আমরা আরো ভালোভাবে কাজ করতে পারব। ২৪ ঘণ্টার শিফটে কাজ করছে এপিবিএন। এতে শাহজালালে বন্ধ হয়েছে চুরি, ছিনতাই, ভিক্ষুক ও মলম পার্টির দৌরাত্ম্য। এরই ধারাবাহিকতায় শাহজালালের নিরাপত্তায় এবার যুক্ত হলো ডগ স্কোয়াড।
আর্মড পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, এসব ডগ অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। কারো শরীর অথবা ব্যাগে মাদক কিংবা বিস্ফোরক থাকলে সঙ্গে সঙ্গে ঘ্রাণশক্তি ব্যবহার করে তা শনাক্ত করতে সক্ষম। আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা দুই বছর আগে বাচ্চা ডগ এনেছিলাম। এগুলো এনে দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে মিলিয়ে ট্রেনিং করানো হয়েছে। আমেরিকান অ্যাম্বাসি বিশেষভাবে আমাদের সহায়তা করেছে।
বিমানবন্দরে দায়িত্বপালনকারী একাধিক সংস্থার কর্মকর্তারা বলেছেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় ডগ স্কোয়াড যুক্ত হওয়ায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নিরাপত্তা স্ট্যান্ডার্ডে আরো একধাপ এগিয়ে গেল।
উল্লেখ্য, নিরাপত্তার স্বার্থে সম্প্রতি দেশের সব বিমানবন্দরে ডগ স্কোয়াড গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এজন্য একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নামে একটি প্রকল্প চলতি বছরের (১৮ মে) একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ডগ স্কোয়াড গঠনের নির্দেশ দেন। সভায় জানানো হয়—বাংলাদেশে তিনটি আন্তর্জাতিক ও ছয়টি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর রয়েছে। দেশের স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বিমানবন্দরগুলোর ব্যস্ততাও দিন দিন বাড়ছে। নতুন প্রকল্পের আওতায় এসব বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হবে।
