মোস্তাফিজের ফেসবুক

আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৯, ১৮:৩৫

সাদিকুল নিয়োগী পন্নী

 

‘মার্ক জাকারবার্গ আমার আইডিয়া নিয়েই ফেসবুক চালু করেছিল। দেখতে দেখতে কয়েক বছরের মধ্যে এটা কত সহজেই জনপ্রিয় হয়ে গেল। এখন আমারেই পাত্তা দেয় না এই বেটা। সবই কপাল!’ এই বলে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন মোস্তাফিজ আহমেদ।

প্রতিবেশী ছোট ভাই আকরাম বললেন, ‘ভাই আপনি মন খারাপ করবেন না। সময় হলে জাকারবার্গ নিজের ভুল বুঝতে পারবে। তখন প্রয়োজনে আপনি ভাব নিবেন।’ 

—আমার তো ভাব নেয়ার দিন শেষ। দুই দিন আগে যে জাকারবার্গ ফিডার মুখে দিয়ে ঘুরত, সে এখন দেশ-বিদেশে সেমিনারে বক্তব্য দিয়ে বেড়ায়। একটাবার মনেও করে না কার জন্য এত বড় প্লাটফর্ম পেল।

—বাদ দেন না তার কথা। এত হতাশ হলে হবে? আপনি হলেন আইডিয়ার মাস্টার। নতুন কিছু ভাবেন।

—ভাবার সময়টাই তো পাচ্ছি না। সারা দিন তো ফেসবুক নিয়েই ভাবতে হচ্ছে। এক পিচ্চি পোলা আমার আইডি ব্লক করে দিছে।

—বলেন কী! এত বড় সাহস পেল?

—আর বলো না ভাই। আমি নাকি সব বয়সী মেয়েদের বিরক্ত করি। মেয়েরা নাকি তার কাছে রিপোর্ট করছে। এখন আর আইডি লগ ইন করতে পারি না।

আবার দীর্ঘশ্বাস ফেললেন মোস্তাফিজ।

আকরাম বললেন, ‘নতুন আইডি খুলেন। জাকারবার্গ ডালে ডালে চড়লে আপনি চড়বেন পাতায় পাতায়।’

মোস্তাফিজ আহমেদ এবার নড়েচড়ে বসে ফেসবুক নিয়ে ঘাটাঘাটি শুরু করলেন। কতক্ষণ পর আনন্দে চিত্কার দিয়ে বললেন, ‘ইয়েস, নতুন আইডি হয়ে গেছে!’

আকরাম আনন্দে হাততালি দিয়ে বললেন, ‘ভাই, আপনারে আটকাবে এমন সাধ্য কার আছে। আবার শুরু করেন ফেসবুকিং।’

—এবার ফেসবুকিং কারে কয় দেখাব। সব রিক্যুয়েস্ট পাঠাব জাকারবার্গের গার্লফ্রেন্ডদের। কাকে ক্যামনে সাইজ করতে হয়, সেটা আমার ভালো করে জানা আছে।

—ভাই রিক্যুয়েস্ট পাঠানো শুরু করেন তাইলে।

মোস্তাফিজ মোবাইল চাপতে চাপতে বললেন, ‘ইয়েস, রিক্যুয়েস্ট চলে গেছে।’

—ভাই জাকারবার্গের বান্ধবীকে পাঠালেন নাকি?

—এখনো পাঠাতে পারিনি। কারণ তাদের নাম জানি না। তবে আশা করি পেয়ে যাবে। আপতত তার তিন বোন র্যান্ডি, ডোনা ও অ্যারিয়েলকে পাঠালাম।

—জাকারবার্গকে পাঠাবেন না?

—এই বদটার নাম মুখে নিবে না আর। নতুন আইডি খুলেই প্রথমে ওকে ব্লক করছি।

—বলেন কী ভাই। আকরাম হাসিমুখে বললেন।

—হুম। মেয়েদের রিপোর্টে ওই বেটা আমাকে ব্লক করছিল। এখন তার বোনদের বিরক্ত করলে তো আমার জীবন ব্লক করে দিবে।

আকরামের ফোনে একটা নোটিফিকেশন এল। সে এটা দেখে মোস্তাফিজকে বললেন, ‘ভাই, আপনার ফেসবুক কী কেবল মেয়েদের জন্য? আপনি তো আমাকেও অ্যাড করলেন না?

—তোমার স্থান তো আমার বুকের ভেতর। যার স্থান বুকের মধ্যে তাকে ফেসবুকে আনব কেন?

—ঠিক আছে ভাই। অ্যাড করতে হবে না। আপনি আরো কিছু রিক্যুয়েস্ট পাঠান।

আকরামের কথায় মোস্তাফিজ আবার ফেসবুক চালাতে শুরু করল। হঠাত্ তিনি চিত্কার দিয়ে বললেন, ‘আবার আমার আইডিতে কে রিপোর্ট করল? সাময়িক বন্ধ দেখাচ্ছে! জাকারবার্গ তাহলে বিষয়টা বুঝে গেছে।’

আকরাম এবার মুচকি হাসি দিয়ে বললেন, ‘এবার রিপোর্ট করছি আমিসহ বেশ কয়েকজন।’

‘মানে কী?’ জানতে চাইলেন মোস্তাফিজ।

আকরাম বললেন, ‘আপনি আমার বেশ কয়েকজন বান্ধবীকে এরমধ্যে রিক্যুয়েস্ট পাঠিয়েছেন। ইনবক্সে আপত্তিকর মেসেজও দিয়েছেন। তারা বিষয়টি আমাকে জানানোর পর সবাই মিলে ব্যবস্থা নিলাম।

‘সবই জাকারবার্গের দালাল। আমার মতো আইডিয়াবাজের মূল্য বুঝে না।’ বিড়বিড় করে এসব কথা বলে মোস্তাফিজ আকরামের কাছ থেকে চলে গেলন।  g