ফটোশপের খেইল!

আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৯, ১৮:৩৭

তানভীর আহাম্মেদ

 

দৃশ্য :১

 

ক্লাস রুমে দুই বন্ধুর গল্প।

প্রথম বন্ধু :দোস্ত, আমি তো ফটোশপের কাজ শিখছি।

দ্বিতীয় বন্ধু :তাই নাকি! আচ্ছা, আমার একটা ছবিতে কাজ করে দে।

প্রথম বন্ধু :আচ্ছা, আমাকে ছবি ইনবক্স কর।

 

দৃশ্য :২

 

সন্ধ্যাবেলা চায়ের দোকানে সেই দুই বন্ধু।

প্রথম বন্ধু :এই নে তোর ছবি। দেখ ফটোশপের কেরামতি!

দ্বিতীয় বন্ধু :এটা কী? আমার মাথা কোথায়!

প্রথম বন্ধু :হাঃ হাঃ হাঃ। মাথা মাছে খেয়ে ফেলেছে। এইটাই তো ফটোশপ।

দ্বিতীয় বন্ধু :ইন্টারেস্টিং তো। আমাকেও একটু এই এডিটিং শিখিয়ে দিবি একদিন।

প্রথম বন্ধু :ওকে। তোর ছবিটা আজকে আমার ফেসবুক থেকে শেয়ার দেব। ক্যাপশন দেব ‘গোসল করতে নদীতে গিয়ে আমার বন্ধুর মাথা উধাও’।

দ্বিতীয় বন্ধু :খুব মজার হবে। আচ্ছা দে। আমাকেও ট্যাগ করিস।

 

দৃশ্য :৩

 

পরদিন সকালে পাড়ার দোকানে চায়ের আড্ডায় লোকজন।

প্রথম লোক :খুব ভয়ানক ব্যাপার। এক ছেলে নদীতে ডুব দিয়ে আর উঠে আসেনি। পরে তার মাথা ছাড়া লাশ আসছে।

দ্বিতীয় লোক :তাই নাকি? তুমি দেখেছ?

প্রথম লোক :হ্যাঁ। এই যে লাশের ছবি। কত তাজা রক্ত দেখছেন!

অন্যান্য লোক জন :ভাই, ছবিটা আমাদের ইমোতে দেন। ফেসবুকে পোস্ট দেব।

(অতএব ধীরে ধীরে শেয়ার, পোস্ট, ছবি ভাইরাল)

 

দৃশ্য :৪

 

স্কুলের সামনে অপেক্ষমান অভিভাবকগণ।

—ভাবি, জানেন নদীতে ডুব দিলেই নাকি রক্তখেকো কি এক জন্তু মাথা খেয়ে ফেলে। কয়েকটা ছবিও দেখলাম।

—কী বলেন ভাবি! সত্যি নাকি?

—আমিও শুনেছি ভাবি। আমার শাশুড়ি তো আজ বাচ্চা নিয়ে নদীর পাড় দিয়ে আসতেই দেয়নি। এইটার নাকি লম্বা হাত, পাড়ের থেকে ক্ষপ করে ধরে নিয়ে যায়।

অতএব জনমনে আতঙ্ক...

 

দৃশ্য :৫

 

বিকাল বেলা আবার সেই দুই বন্ধু।

প্রথম বন্ধু :ওই তুই কি করলি এইটা। নদীতে নামলে মাথা খেয়ে ফেলে নিউজ পুরা? ভাইরাল।

দ্বিতীয় বন্ধু :হ্যাঁ বন্ধু। খুব আতঙ্কে আছি। এই নিউজ কে ছড়িয়েছে তা নিয়ে নাকি তদন্ত ও হচ্ছে। আমি তো ফটোসগ এক্সপার্ট হিসেবে ইমেজ বাড়াইতে চেয়েছিলাম।

প্রথম বন্ধু :ঠেলা বুঝো। চল আইডি ডিঅ্যাক্টিভ করে কোথায় ক’দিন পালিয়ে থাকি। অন্য আরেক ইস্যু আসতে সময় নেবে না। সেইটা আসলে এইটা চাপা পড়ে যাবে। ততদিনে এলাকা ছেড়ে কোথাও ঘুরে আসি।