‘পাগলা মহিষের’ তাণ্ডবে তছনছ ফসলি জমি, শিংয়ের গুঁতোয় আহত বহু

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২৫, ২১:৪৯

রাজশাহী ও নাটোরের তিন উপজেলায় রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছে একটি মহিষ। প্রায় ৩০ ঘণ্টা ধরে তিন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে বেড়িয়েছে মহিষটি। এসময় যাকে সামনে পেয়েছে, তাকেই দিয়েছে শিংয়ের গুঁতো।

সবশেষ শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) ফাঁদ পেতে ওই মহিষকে ধরতে সক্ষম হয় গ্রামবাসী। তবে এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৩০ ঘণ্টায় বিভিন্ন গ্রামে চষে বেড়িয়েছে মহিষটি। এসময় কৃষকের ১০ বিঘা জমির ভুট্টাক্ষেত নষ্ট করার পাশাপাশি শিংয়ের গুঁতোয় অন্তত ১০ জনকে আহত করেছে। আহতদের কেউ কেউ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার শুরু বৃহস্পতিবার দুপুরে। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আরিফপুর গ্রামের এমদাদুল হক গ্রামের পুকুরে একজোড়া মহিষকে গোসল করাচ্ছিলেন। হঠাৎ দঁড়ি ছিঁড়ে একটি মহিষ দৌঁড় দেয়। তখন থেকে এমদাদুল ও স্বজনদের বিরামহীন দৌঁড় শুরু হয়।

তারা জানান, প্রথম দিন পুরো বাঘা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে খোঁজ চলে। রাতের আঁধারে মহিষটি নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার জামনগর গ্রামে ঢুকে পড়ে। গ্রামের আশপাশে রাতভর পাহারায় সময় কাটান ভুক্তভোগীরা।

শুক্রবার সকাল ৯টায় দ্বিতীয় দিনের মত মহিষটিকে বাগে আনার চেষ্টা চালান তারা। পরে দুপুরের দিকে মহিষটি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার দইপাড়া ও দুলবপুর মাঠের একটি ভুট্টাক্ষেতে ঢুকে পড়ে। এতে মহিষের তাণ্ডবে অন্তত ১০ বিঘা জমির ভুট্টা নষ্ট হয়।

এক পর্যায়ে গ্রামবাসী মহিষটিকে থামানোর চেষ্টা করলে আক্রমণ শুরু করে মহিষটি। এতে ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে আনারুল ইসলাম ও মাজেদুল ইসলামকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে মহিষটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে গ্রামবাসী যোগাযোগ করে বন বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগে। তবে শুক্রবার অফিস বন্ধ থাকায় তারা সহযোগিতা পায়নি। স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জানান, এমন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো ব্যবস্থা তাদের নেই। এরপর শুক্রবার সন্ধ্যায় দইপাড়া ও দুলবপুর গ্রামের লোকজনের সহায়তায় ফাঁদ পেতে মহিষটি ধরতে সক্ষম হয় এলাকাবাসী।

পুঠিয়া উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, এমন আচরণের পেছনে অসুস্থতা, কুকুরের কামড় কিংবা গরমে অস্থিরতার কারণে হতে পারে। নিশ্চিত করে কিছু বলা কঠিন।

ইত্তেফাক/এপি