নিকলী হাওরে সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত

আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৯, ২০:৪৩

নিকলী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা

হাওর এমনিতেই রূপে অপরূপ। হাওরের থৈ থৈ পানিতে সূর্যের আলো পড়ে আগুনের লাভার মতো দেখায়। হাওরের সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত কোনো সমুদ্র সৈকতের সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের চেয়ে কম মনোমুগ্ধকর নয়। কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার বেড়িবাঁধের যে কোনো স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অসাধারণ এ রূপ অবলোকন করা যায়।

শুক্রবার ভোরে বেড়িবাঁধে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জলরাশি, চারদিকে পানি আর পানি। বিশাল জলরাশির মাঝে দ্বীপের মতো ‘ভাসমান’ ছোট ছোট গ্রাম। যে কোনো গ্রাম থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

নিকলী উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্র চন্দন বর্ম্মন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির ছাত্র সারোয়ার আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র সাজন মাহমুদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভািগের ছাত্র জুমান আহমেদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের ছাত্র আল মামুন ও কিশোরগঞ্জ সরকারি গুরুদয়াল কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক নুসরাত জাহান উর্মি বলেন, আমাদের নিকলীর বেড়িবাঁধে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখে যে মনোমুগ্ধকর অনুভূতির সৃষ্টি হয়।

হাওর পাড়ের কয়েকজন জানান, সৌন্দর্য পিপাসুরা সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার জন্য হাজার হাজার টাকা খরচ করে চলে যায় কুয়াকাটা বা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। কিন্তু কিশোরগঞ্জের নিকলী হাওরে কেউ সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখতে আসে না। কেউ হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসে না।

নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুচ্ছমত্ শাহীনা আক্তার এবং নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির উদ্দিন ভূইয়া বলেন, হাওর উপজেলা নিকলীর বেড়িবাঁধের ওপর থেকে সূর্যোদয় দেখলে মনে হয়, পানির ভেতর থেকে সূর্য উঠছে। আর বিকেলে সূর্যাস্ত দেখলে মনে হবে যেন পানির ভেতরে সূর্য ডুবে যাচ্ছে। এ দৃশ্য বিনোদন পিপাসুদের হূদয়ে নাড়া দেবে। তিনি আরো বলেন, সরকারি উদ্যোগে পর্যটকদের জন্য জায়গা করে দিতে পারলে অবশ্যই নিকলীর হাওর হবে পর্যটন কেন্দ্র।