ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ
ইত্তেফাক রিপোর্ট
রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে অতিরিক্ত ছাত্রী ভর্তির দায়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ভর্তিতে গভর্নিং বডি এবং প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন শিক্ষককে দায়ী করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, গভর্নিং বডির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ না থাকলেও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে। শিক্ষকরা অবৈধভাবে ভর্তি করেছেন, এমন প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র জানায়, চলতি বছর ভিকারুননিসায় ৩৬৮ জন অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তির অভিযোগ ওঠে। নীতিমালা অনুযায়ী, পূর্বঘোষণা ছাড়া ভিকারুননিসায় কোনো আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না। অথচ এক শাখায় শূন্য আসন দেখিয়ে অন্য শাখায় শিক্ষার্থী ভর্তি করেছে কর্তৃপক্ষ। অতিরিক্ত ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবেদনও করেনি, এমন বেশ কয়েকজন রয়েছে। এ ছাড়া লটারিতে ব্যর্থ বা লিখিত পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদেরও ভর্তি করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। তদন্ত প্রতিবেদনে অবৈধ ভর্তির সঙ্গে জড়িত চারজন শিক্ষকের নাম উঠে এসেছে। এরা হচ্ছেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাসিনা বেগম, কেকা রায় চৌধুরী, শিক্ষক প্রতিনিধি মুসতারি সুলতানা ও শিক্ষক প্রতিনিধি মাহাবুবুর রহমান।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন, ভর্তির ক্ষেত্রে গভর্নিং বডির সভাপতিসহ ১১ জনের প্রত্যেকে প্রথম শ্রেণির জন্য ১০টি করে, দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ১০টি করে, নবম শ্রেণির জন্য তিনটি করে কোটা নিয়েছেন। এ ছাড়া পরবর্তী সময়ে ভর্তির জন্য আরো দুটি করে কোটা নেন বডির প্রত্যেক সদস্য। সব মিলে প্রত্যেক সদস্য কোটা নিয়ে ভর্তি করেন ২৫ জন করে। সে হিসাবে ২৭৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করেন গভর্নিং বডির সদস্যরাই। এছাড়া মন্ত্রী, সংসদ সদস্যরা ডিও লেটারের মাধ্যমে ভর্তি করেন। ডিও লেটারের মাধ্যমে ভর্তি করেন মাউশির বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাও। পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ১৫ জন সন্তান ভর্তি হয়।
সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছর প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৪০০ অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে ভিকারুননিসায়। সে অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি (১৬৫ জন) ভর্তি করা হয়েছে প্রথম শ্রেণিতে। এছাড়া দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৫৬, তৃতীয় শ্রেণিতে ৯৫, চতুর্থ শ্রেণিতে ৩৯, পঞ্চম শ্রেণিতে ৩১, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ১১, সপ্তম শ্রেণিতে ২৬, অষ্টমে ২ জন, নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগে সাত জনকে ভর্তি করা হয়েছে।
ভিকারুননিসার প্রাক্তন অধ্যক্ষ হাসিনা বেগম বলেন, ‘প্রতিটি ভর্তি গভর্নিং বডির নির্দেশমতো হয়েছে। তারা যেভাবে চেয়েছেন সেভাবে হয়েছে। ভিকারুননিসার অধ্যক্ষের ক্ষমতা নেই গভর্নিং বডির সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়া। এছাড়া আমি ছিলাম ভারপ্রাপ্ত। আমার ক্ষমতা ছিল আরো কম। আমি অতিরিক্ত ভর্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নই।’
