শেরপুরের নালিতাবাড়ী এলাকায় বুনো হাতির আক্রমণে কৃষক আহতের ঘটনার চারদিনের মাথায় এবার পায়ে আঘাত প্রাপ্ত একটি হাতি উদ্ধার করা হয়েছে। বল্লমের আঘাতে হাতিটির পায়ে প্রায় ৬ ইঞ্চি ক্ষত হয়েছে বলে জানিয়েছে বনবিভাগ। উদ্ধারের পর চিকিৎসা শেষে হাতিটি দলে ফিরে গেছে।
বৃহস্পতিবার (১মে) দুপুরে উপজেলার সীমান্তবর্তী দাওধারা কাটাবাড়ির গারো পাহাড়ের ভেতরে ওই হাতিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বনবিভাগের সূত্র জানায়, কাটাবাড়ি নতুন পর্যটন এলাকার একটি আঘাতপ্রাপ্ত বুনো হাতিকে দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা বনবিভাগের লোকজনকে খবর দেয়। পরে বনিভাগের চিকিৎসক ও কর্মীরা এসে হাতিটির জিচকিৎসার করান। তবে আহত বুনো হাতিকে আরও ২/৩ মাস আগে বল্লম বা দেশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। আঘাতের গভীরতা ছিল প্রায় ৬ ইঞ্চি। আঘাতের ফলে হাতিটির দেহের মেজর টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান চিকিৎসকরা।
গাজীপুর সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, হতিটিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আঘাতপ্রাপ্ত স্থানটি ড্রেসিং করে এন্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হয়েছে। আশা করছি এটি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে।
এর আগে সোমবার বাতকুঁচি গ্রামে জমশেদুল ইসলাম ছোটন নামে (৩৬) নামে এক কৃষক হাতির আক্রমণে আহত হন। আহত ছোটন বাতকুঁচি গ্রামের মৃত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামের ছেলে। সেদিন সকালে এলাকাবাসীর সঙ্গে হাতির তাড়াতে গিয়ে আক্রমণের শিকার হয়ে জেলা সদর শেরপুর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তিনি।
বন বিভাগ, কৃষক ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ৩ সপ্তাহ ধরে শাবকসহ ৪০/৪৫ বন্যহাতি নালিতাবাড়ীর বুরুঙ্গা, কালাপানি, বাতকুঁচি ও মধুটিলা ইকোপার্কের আশেপাশে ঘুরাঘুরি করছে। দিনের বেলা গারো পাহাড়ে থাকলেও সন্ধ্যা নামতেই খাবারের সন্ধানে হাতির পাল হানা দিচ্ছে বিভিন্ন চাষের জমিতে। তাই কৃষকের রাত জেগে ধান পাহারায় বসছেন। হাতির তাণ্ডবে নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় অনেকেই আধাপাকা ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। সবশেষ গত মঙ্গলবার গারো পাহাড় সংলগ্ন মহাসড়কে নেমে আসে হাতির পাল। এসময় ডাক-চিৎকার, আগুন জ্বালানোসহ বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে হাতিগুলোকে সরানো যায়নি। পরে ওই এলাকায় প্রায় ৪ ঘণ্টা অবস্থানের পর রাত ৮টার দিকে গারো পাহাড়ের ভেতরে চলে যায় হাতিগুলো।
এদিকে বনবিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতি রাতে ধান খাওয়ার জন্য হাতির দল লোকালয়ে হানা দেওয়ার বিষয়টি এলাকাবাসী জানিয়েছেন। হাতি প্রতিরোধে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্য ও বন বিভাগের লোকজন কাজ করছেন। হাতির আক্রমণে যাদের ফসল নষ্ট হবে, তাদের বন বিভাগের কাছে ক্ষতিপূরণ পেতে আবেদন করতে বলা হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই বন্যহাতিকে মারা কিংবা হত্যার ব্যাপারে নিষেধ করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ বনবিভাগের ও মধুটিলা এলাকার রেঞ্জ কর্মকর্তা দেওয়ান আলী বলেন, হাতি এবং মানুষের সহঅবস্থানের জন্য আমরা কাজ করছি। কোনো অবস্থাতেই বন্যহাতি মারা বা তাদেরকে উত্যক্ত করা যাবে না। আমরা ফসলের ক্ষতিপূরণও দিচ্ছি।
