যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চ-স্তরের বৈঠক স্থগিত হওয়ায় তিন ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে ইরানের একটি নির্ধারিত কারিগরি বৈঠক বাতিল হয়েছে। শুক্রবার (২ মে) বার্তা সংস্থা এএফপি'র সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন-নোয়েল ব্যারোট এ কথা জানিয়েছেন।
ব্যারোট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চ-স্তরের বৈঠকের আগে একটি নির্ধারিত কারিগরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। যেহেতু ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে না, তাই কারিগরি বৈঠকটি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে।
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনার আগে ২ মে ইরান এবং জার্মানি, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সের অংশগ্রহণে আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ফরাসি মন্ত্রী বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের উপর আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে প্রস্তুত।
তিনি বলেন, যদি পারমাণবিক কর্মসূচির উল্লেখযোগ্য, যাচাইযোগ্য এবং নির্ভরযোগ্য হ্রাসের বিষয়ে ইরানের সাথে আমাদের কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে আমরা ইউরোপীয়রা এক দশক আগে চুক্তিতে পৌঁছানোর সময় যে নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নিয়েছিলাম, তা আবার প্রয়োগ করব।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই পরোক্ষভাবে ইরান-মার্কিন আলোচনার তারিখ স্থগিতের ঘোষণা দেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, ইরান আগের চেয়েও বেশি একটি ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ চুক্তিতে পৌঁছাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
আরাকচি এক্স-পোস্টে লিখেছেন, আমরা ওমানি এবং আমেরিকান পক্ষের সাথে লজিস্টিক এবং কারিগরি কারণে চতুর্থ দফার আলোচনা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রকৃতপক্ষে, আমরা একটি ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আগের চেয়েও বেশি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: এমন একটি চুক্তি যা নিষেধাজ্ঞার অবসান নিশ্চিত করে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি চিরকাল শান্তিপূর্ণ থাকবে বলে আস্থা তৈরি করে, একই সাথে ইরানের অধিকারের পূর্ণ সম্মান নিশ্চিত করে।
