রোহিঙ্গা নারীকে জন্ম সনদ দেওয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

আপডেট : ০২ মে ২০২৫, ২০:৫২

কুমিল্লায় দুই রোহিঙ্গা নারীকে জন্ম সনদপত্র প্রদান করার সত্যতা পেয়ে এক ইউপি চেয়ারম্যানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। শুক্রবার (২ মে) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন। 

বরখাস্ত হওয়া ওই চেয়ারম্যান কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু তাহের।

গত ২৯ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ইউপি-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব তৌহিদ এলাহি স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে এই আদেশ প্রদান করা হয়। 

আদেশে উল্লেখ করা হয়, চিওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (নিবন্ধক) মো. আবু তাহেরের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গার অনুকূলে জন্ম নিবন্ধন সনদ ইস্যুকরণ এবং নিজের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড অন্য ব্যক্তির নিকট হস্তান্তর, সচেতনতার অভাব, দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে অবহেলার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৪ (৪) (খ) (ঘ) ধারা অনুযায়ী রেজিস্ট্রার জেনারেল, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান আবু তাহের কর্তৃক সংগঠিত অপরাধমূলক কার্যক্রম ইউনিয়ন পরিষদসহ জনস্বার্থের পরিপন্থী বিবেচনায় স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদ আইন অনুযায়ী চেয়ারম্যান আবু তাহেরকে স্বীয় পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১১ জুন ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ভিয়েতনাম যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ হুমায়রা ও শারমিন আক্তার নামে দুই জন রোহিঙ্গা নারীকে আটক করে। পরে তাদের বিরুদ্ধে ১৫ জুন কুমিল্লা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিএসবি) উপ-পরিদর্শক ইমাম হোসেন বাদী হয়ে চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরই ২৭ জুন থানা পুলিশ হুমায়রা ও শারমিন আক্তারকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলেন, দুই রোহিঙ্গা নারী চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ১১নং চিওড়া ইউনিয়নের কাজী খবির উদ্দিন ঐ দুই নারীর পিতা সেজে পরিষদ থেকে দুইটি জন্ম সনদ তৈরি এবং জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট তৈরির সহায়তা করেন। 

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান আবু তাহের বলেন, রোহিঙ্গা নারীদের নামে জন্ম সনদ ইস্যুর ঘটনাটি জন্ম নিবন্ধন শাখার রেজিস্ট্রার জেনারেল আমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করলে আমি তার জবাব প্রদান করি। কারও বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাই করে সনদ দেওয়া সম্ভব নয়। 

আবু তাহেরের ভাষ্যমতে, ‘জন্ম সনদ গ্রহীতা ঐ দুই নারীর কথিত পিতা কাজী খবির উদ্দিনের বিরুদ্ধে ডিএসবি মামলা দায়ের করেছিলো। সেই মামলায় পুলিশ তাকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট প্রদান করে। চার্জশিটে আমাকে সাক্ষী করা হয়। বরখাস্ত করার বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবেলা করবো।’

ইত্তেফাক/এএইচপি