সড়কজুড়ে গর্ত আর খানাখন্দ। স্থানে স্থানে উঠে গেছে ইট। গর্তে জমে আছে কাদা-পানি। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় রায়পুর-পানপাড়া সড়কের সাত কিলোমিটার অংশে এমন দশা হয়েছে। বেহাল এই সড়কে প্রায় দুই বছর ধরে ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। কোথাও কোথাও অবস্থা এতটা খারাপ যে হেঁটেও চলাচল করা যায় না। ফলে চলাচলে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন দুই উপজেলার অন্তত ৩০ হাজার মানুষ।
জানা গেছে, রায়পুর-রামগঞ্জ উপজেলার মধ্যে যোগাযোগের সহজ মাধ্যম ঐ সড়ক। দুই উপজেলার বিভিন্ন পণ্য দ্রুত শহরে পৌঁছানো সম্ভব হতো এ সড়ক দিয়ে। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে সংস্কার না করায় সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ঐ সড়কের যানবাহনগুলোকে প্রায় ২০ কিলোমিটার ঘুরে রায়পুর-রামগঞ্জ উপজেলা শহরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে রায়পুর-রামগঞ্জ উপজেলাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্তমান স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলামের বাড়িতে চলাচলের একমাত্র সড়কও এটি। তাই এলাকাবাসী তাঁর কাছে দ্রুত সড়কটি মেরামতের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন এই সড়ক একসময় কাঁচা ছিল। আট বছর আগে এলজিইডি বিভাগ সড়কটির সাত কিলোমিটার সংস্কার করে। সংস্কারের এক থেকে দেড় বছর পরই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ ঢালাই উঠে গর্ত হয়ে যায়। সবশেষ গত দুই বছর আগে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে সড়কের বিভিন্ন স্থান ভেঙে যায়। সৃষ্টি হয় ছোটো-বড়ো গর্তের। বিশেষ করে সাত কিলোমিটার সড়কের তিন কিলোমিটার একেবারেই ভেঙে গেছে। এতে ভারী যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
সিএনজি চালক ফরিদউদ্দিন বলেন, সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি ঐ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে লোকজন দুর্ঘটনার শিকারও হচ্ছেন। আর সামান্য বৃষ্টি হলে সিএনজি দূরের কথা, পায়ে হেঁটে যাতায়াতেও সমস্যা হয়ে পড়ছে। বর্তমান এমপির বাড়িও এই সড়কে। এরপরও সড়কটি সংস্কার হচ্ছে না। উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান কামাল বলেন, এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন দুটি উপজেলার বিপুল সংখ্যক মানুষকে জেলা শহরে চলাচল করতে হয়। বর্তমানে সড়কের এমন অবস্থা— যানবাহন তো দূরের কথা, হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই সড়ক দিয়ে ভারী সব যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি জানিয়ে এমপিসহ বিভিন্ন জায়গায় জানানোর পরও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। তবে ইচ্ছে করলে আমাদের বর্তমান এমপি সড়কটি দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নিতে পারেন। কারণ সড়কের পাশেই তাঁর বাড়ি। তিনিও এই সড়ক দিয়ে বাড়িতে যাতায়াত করেন।
রায়পুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আকতার হোসেন ভূঁইয়া সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে মানুষের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, সড়কটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি মেরামতের জন্য আরসিআইপি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করে দরপত্রও আহবান করা হয়েছে। তাই দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা হবে বলে তিনি জানান।
