খবরে প্রকাশ, পটুয়াখালী জেলায় ১ হাজার ২২৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের মধ্যে ৩৯৮টি ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘদিনেও এইসব ভবন সংস্কার বা মেরামত করা হইতেছে না। ইহাতে ৮০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী তাহাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়া লেখাপড়া করিতেছে। কোনো কোনো স্থানে পাঠদান চলিতেছে খোলা আকাশের নিচে। রোদ-বাদলে তাহাদের দুর্ভোগের অন্ত নাই। ঝুঁকিপূর্ণ এইসব স্কুলের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে পাঠানো হইয়াছে। ইহার পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি ভিত্তিতে কয়েকটি স্কুল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হইয়াছে বটে; কিন্তু তাহা অপ্রতুল। অধিকাংশ বিদ্যালয়ে ঝুঁকি এখনও রহিয়াই গিয়াছে। বহুদিন ধরিয়া সংস্কার না হওয়ায় অনেক ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসিয়া পড়িয়া রড বাহির হইয়া পড়িয়াছে। খুলিয়া পড়িয়াছে দরজা-জানালা। কোথাও কোথাও স্কুল ভবনের ছাদে দেখা দিয়াছে বড়ো বড়ো ফাটল। সেখানে এই বর্ষা মৌসুমে ছাদ চুইয়া চুইয়া পানি পড়িতেছে। যে কোনো মুহূর্তে এইসব ভবন ধসিয়া পড়িয়া ঘটিতে পারে বড়ো ধরনের দুর্ঘটনা। তাই এইসব ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী, তাহাদের অভিভাবক ও শিক্ষকগণ চরম উত্কণ্ঠায় রহিয়াছেন।
পটুয়াখালীর প্রায় ৪০০ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের যে চিত্র তুলিয়া ধরা হইল তাহা এখানেই শেষ নহে। ইহা দেশের একটি খণ্ডচিত্র মাত্র। প্রকৃতপক্ষে সারাদেশে এমন ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় রহিয়াছে অসংখ্য। শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন, সরকারি অনেক মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ভবন বা আবাসিক হল ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রহিয়াছে। কোনো কোনো ভবন পরিত্যক্ত বলিয়াও ঘোষণা করা হইয়াছে; কিন্তু সংস্কার বা পুনর্নিমাণ করা হইতেছে না। ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা আসাই বন্ধ করিয়া দিয়াছে। জানা যায়, সারাদেশে ৬৫ হাজারেরও বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় রহিয়াছে। ইহার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি প্রতিষ্ঠানে নির্মাণ করা হইয়াছে নূতন ভবন। অনেক বিদ্যালয়ে নূতন নির্মাণকাজ চলমান; কিন্তু বাকিগুলি রহিয়াছে ভয়াবহ ঝুঁকিতে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ থাকিলেও বড়ো ধরনের প্রকল্প হাতে না নেওয়ায় প্রতি বত্সরই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা বাড়িতেছে। কোথাও কোথাও টিনশেড ঘর বা ছাপরা ঘর তৈরি করিয়া শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়ার চেষ্টা চলিতেছে; কিন্তু ইহা কোনো স্থায়ী সমাধান হইতে পারে না।
ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হইতেছে। শিক্ষা যেইখানে মানবসম্পদ তৈরি করিতেছে, সেইখানে এই ঝুঁকি মোকাবিলায় অবহেলা কোনোভাবেই কাম্য নহে। শুধু ঝুঁকিমুক্ত নহে, শিশুদের জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলি সর্বদিক দিয়া আকর্ষণীয় করা দরকার। সাম্প্রতিককালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের পলেস্তারা মাথার ওপর খসিয়া পড়িয়া শিশু শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনাও ঘটিয়াছে। তাহার পরও আমরা সতর্কতা অবলম্বন করিতেছি না যাহা দুঃখজনক। বিদ্যালয় ভবনের ছোটো-খাটো ত্রুটি স্থানীয় বিভিন্ন প্রকার বরাদ্দ দ্বারাই সারানো যায়। তবে বড়ো ধরনের নির্মাণ ব্যয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবশ্যই প্রাণান্তকর চেষ্টা অব্যাহত রাখিতে হইবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দূর করিতে হইবে প্রাশাসনিক জটিলতা, অজুহাত বা দীর্ঘসূত্রিতা। আবার সংস্কার কাজ চলাকালে যাহাতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত না হয়, সেদিকেও নজর রাখিতে হইবে। এই ব্যাপারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ত্বরিত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
