আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা যে অভিযোগ করেছেন তা অসত্য, মিথ্যা, বানোয়াট, কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দেশের ভেতরে লুকায়িত সাম্প্রদায়িক ও উগ্রবাদী গোষ্ঠীকে উত্সাহিত করে। এছাড়া তার এ বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। দেশদ্রোহী হিসেবে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। আমরা তার এ ধরনের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই।’
গতকাল শনিবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে সহযোগী সংগঠনগুলোর এক যৌথ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলারের বরাত দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন, এ ধরনের বক্তব্যের কোনো সত্যতা নেই। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চমত্কার একটা পরিবেশ রয়েছে বাংলাদেশে। আমার মনে হয়, এ নিয়ে আর দ্বিধাদ্বন্দ্বের অবকাশ থাকতে পারে না। প্রকৃত অসাম্প্রদায়িক মানুষ সব ধর্মের সাম্প্রদায়িকতাকে ঘৃণা করে।’
সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, বাংলাদেশের কোনো বিবেকবান দেশপ্রেমী হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্য প্রিয়া সাহার বক্তব্যের সঙ্গে একমত হবেন না। আমিও তার সম্পর্কে অনেকের সঙ্গে আলাপ করেছি, কথা হয়েছে, তারা এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।’
আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা-নেত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রিয়া সাহার ছবি দেখা গেছে। তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কোনো সম্পর্ক নেই। তার কোথাও আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদও নেই।’ তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে অনেক মানুষ চলাচল করে। সবাইকে তো চেনা সম্ভব না। কেউ যদি ভিড়ের মধ্যে কোনো নেতার সঙ্গে ছবি তোলে, তাহলে কি আওয়ামী লীগ নেতার দোষ? এটা একান্তই তার নিজস্ব বিষয়।’
সদ্য অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতাকারীদের শাস্তির বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন, আগামী ২৮ জুলাই থেকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হবে। এমনও হতে পারে, তার সদস্যপদ বাতিল হতে পারে। তিনি আরো বলেন, জাতীয় নির্বাচনে যারা নৌকার বিরোধিতা করেছেন, আগামী নির্বাচনে তারা মনোনয়ন পাবেন না।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সবুর, কৃষিবিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী প্রমুখ। যৌথ সভায় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা উপস্থিত ছিলেন।
