অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে ব্যবস্থা :স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৯, ২১:৪৪

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার অভিযোগ উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও অসত্য। কী কারণে তিনি এমন অভিযোগ করেছেন তা খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল শনিবার সকালে ধানমন্ডির নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু বলে কিছু নেই। এখানে সবাই সমান অধিকার নিয়ে সম্প্রীতির সঙ্গে বাস করছে। প্রিয়া সাহা সংখ্যালঘু নির্যাতনের যে অভিযোগ করেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। তিনি বলেন, এ ধরনের অসত্য খবর দেওয়ার পেছনে নিশ্চয়ই একটা কারণ থাকতে পারে। আমরা তাকে অবশ্যই জিজ্ঞাসা করব- কখন, কোথায়, কীভাবে হলো এটা? তার উত্তরের ওপর ভিত্তি করে আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি (প্রিয়া সাহা) বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক। অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্তের স্টেটমেন্টটা নিশ্চয়ই আপনারা দেখেছেন, আমি সেটা দেখেছি। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের স্টেটমেন্টও আমি দেখেছি। তিনি আরো বলেন, গত তত্ত্বাবধায়ক  সরকারের আগে বাংলাদেশে হিন্দুদের হার ছিল এইট প্লাস (৮ শতাংশের বেশি)। ২০১৭ সালের জরিপ অনুযায়ী সেটা টেন প্লাস  হয়েছে।

প্রিয়াকে আইনের আওতায় আনতে কাজ শুরু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহা বাংলাদেশ বিরোধী যে অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। এরই মধ্যে প্রিয়া সাহাকে আইনের আওতায় আনতে কাজ শুরু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল শনিবার দুপুরে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) হলে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

‘সহিংস উগ্রবাদ বিরোধী’ ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার বলেন, প্রিয়ার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যোগাযোগ করছে। সমস্ত বক্তব্য, তথ্য-প্রমাণ ও তদন্ত সাপেক্ষে প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশে চলমান সব উন্নয়ন, গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব  ও অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে এটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র।