ভারতের রাজধানী দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিত আর নেই। গতকাল শনিবার তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী দিল্লির একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। জীবনভর কংগ্রেসের একনিষ্ঠ কর্মী হিসাবে কাজ করে যাওয়া শীলা দীক্ষিতের বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। তাঁর মৃত্যুতে ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহসহ অনেকে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে সম্প্রতি দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। শনিবার দুপুরে হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে সেখানেই মারা যান শীলা। দিল্লির যে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন শীলা সেখানকার চিকিত্সক অশোক শেঠ মিডিয়াকে জানান, চিকিত্সকদের পর্যবেক্ষণে ছিলেন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী। গতকাল দুপুর সোয়া তিনটা নাগাদ হূদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর ভেন্টিলেশনে রাখা হয় তাঁকে। সেখানেই ৩টা ৫৫ মিনিটে নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কংগ্রেস সূত্রে জানা গেছে, দিল্লির নিজামুদ্দিনের বাসভবনেই শীলা দীক্ষিতের দেহ রাখা হবে যাতে সেখানে গিয়ে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে পারেন সমর্থকরা। রবিবার দুপুর আড়াইটা নাগাদ নিগম বোধ ঘাটে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
রাজনৈতিক জীবন
১৫ বছর রাজধানী দিল্লি শাসনের অধিকার করায়ত্ত করেছিলেন শীলা। এর আগে ১৯৮৪ সাল থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত কনৌজের (উত্তরপ্রদেশ) এমপি ছিলেন শীলা দীক্ষিত। সেই সময় একদিকে যেমন লোকসভা সমিতির কার্যভার সামলেছেন, অন্যদিকে তেমনি মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। রাজীব গান্ধী সরকারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন শীলা দীক্ষিত। ১৯৯৮ থেকে ২০১৩ দীর্ঘ ১৫ বছর দিল্লি মুখ্যমন্ত্রীর পদে ছিলেন তিনি। দিল্লিতে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের অপ্রত্যাশিত জয়ের পর থেকেই রাজনৈতিক জগতের থেকে অনেকটাই মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছিলেন শীলা দীক্ষিত। কিন্তু ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে দলের অবস্থা খারাপ দেখে তিনি আর মুখ ফিরিয়ে থাকতে পারেননি। এসে দাঁড়িয়েছিলেন কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধীর পাশে। দিল্লির দায়িত্ব তুলে নিয়েছিলেন নিজের কাঁধে। ১৯৩৮ সালের ৩১ মার্চ পাঞ্জাবের কপুরথলা তে জন্মগ্রহণ করেন শীলা দীক্ষিত। শীলা দীক্ষিতের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে আছে।
