ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে বরিশালে আসা এমভি সুরভী-৮ লঞ্চের স্টাফ কেবিন থেকে আখি আক্তার (২৯) নামে এক গার্মেন্টস কর্মীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃত আখি সিদ্ধিরগঞ্জ আদমজী ইপিজেডের অনন্ত অ্যাপেয়ারেল্স লিমিটেডের এক জন অপারেটর। তিনি বরিশালের বাকেরগঞ্জের পাদ্রিশিবপুরের বড়পুইয়াউটা এলাকার বজলু বেপারীর মেয়ে। আখিকে শ্বাসরোধ করে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলাম পিপিএম।
আখির বাবা জানান, আদমজী এলাকার এক ছেলের সঙ্গে আখির বিয়ে হয়। তাদের ২ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হলে সন্তানকে নানাবাড়িতে রেখে আখি ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি নেন। তিনি আরো জানান, ভোটার কার্ডের জন্য আখির গ্রামের বাড়িতে আসার কথা ছিল। লঞ্চে ওঠার সময় একবার কথা হলেও পরে আর কথা হয়নি। সকালে আখি বাড়িতে না আসায় এবং মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তার সন্ধানে নামেন। পরে বরিশাল লঞ্চঘাটে গিয়ে জানতে পারেন তার মরদেহ উদ্ধারের কথা।
সুরভী-৮ লঞ্চের সুপারভাইজার মেজবাহ উদ্দিন জানান, শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে বরিশালের উদ্দেশে লঞ্চের নিচতলার স্টাফ (লস্কর) কেবিনে ওঠেন আখি আক্তার। এ সময় তার সঙ্গী ছিল এক যুবক। রাতে ঐ দুই জন দুটি ডেক টিকিটও সংগ্রহ করে। কিন্তু শনিবার সকালে লঞ্চঘাটে এসে পৌঁছলে স্টাফরা ঐ কেবিনে গিয়ে আখির মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে। বিষয়টি থানায় জানালে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে সুরতহাল প্রতিবেদন করতে গিয়ে মেয়েটিকে শ্বাসরোধে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া না গেলেও মেডিক্যাল পরীক্ষা ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি আরো জানান, আখির সঙ্গে থাকা যুবকের বিষয়ে পুলিশ খোঁজখবর নিচ্ছে। লঞ্চের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সরবরাহ করা হয়েছে। দ্রুত ঐ যুবককে আইনের আওতায় এনে আখির মৃত্যুরহস্য উন্মোচন করা হবে।
