ঈশ্বরগঞ্জে সুদের টাকা আদায় করতে বসতঘরে তালা!

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:২৩

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের বড় ডাংরী গ্রামের নিরীহ জামির উদ্দিনের বসতঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে একই গ্রামের দাদন ব্যবসায়ী আনিস মিয়া। এ ব্যাপারে দাদন ব্যবসায়ী আনিস মিয়ার বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামির উদ্দিন মামলা করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, জামির উদ্দিনের ছেলে জুলহাস উদ্দিন গাড়ি ব্যবসার জন্য প্রায় দুই বছর আগে একই গ্রামের আনিস মিয়ার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা সুদ নেয়। প্রতি মাসে তাকে ত্রিশ হাজার টাকা করে সুদ দেওয়ার কথা। কিন্তু গাড়িতে আয়-উপার্জন কম হওয়ায় জুলহাস ত্রিশ হাজার করে আঠারো মাস পর্যন্ত সুদের লাভ পরিশোধ করেন। অপরদিকে কোম্পানি থেকে কিস্তিতে নেওয়া গাড়ি দুটির কিস্তি সময় মত পরিশোধ করতে না পারায় কোম্পানি গাড়ি দুটি নিয়ে যায়। এতে জুলহাস দিশেহারা হয়ে পড়েন। এদিকে দাদন ব্যবসায়ী আনিস টাকা আদায়ের জন্য জুলহাসকে না পেয়ে ৪-৫ জন লোক নিয়ে জুলহাসের বাবা জামির উদ্দিনকে তার কর্মস্থল নরসিংদী থেকে তুলে নিয়ে আসে বড় ডাংরী গ্রামে। গত ২৮ অক্টোবর এলাকার লোকজন নিয়ে একতরফা একটি দরবারে জুলহাসের হিস্যার বাড়ির জমি রেজিস্ট্রি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ওই দিন জামিরের বসতঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে জামিরকে ঈশ্বরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে এসে অস্ত্রের মুখে পাঁচটি অলিখিত স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করতে বলে আনিস। প্রাণ ভয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ৫টি খালি স্ট্যাম্পে জামির স্বাক্ষর করেন বলে জানান। স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে ছাড়া পাওয়ার পর স্বাক্ষরিত স্ট্যাম্পগুলো উদ্ধারের জন্য জামির গত ২৯ নভেম্বর ময়মনসিংহ নির্বাহী ম্যাজিঃ আদালতে আনিসসহ অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন এবং ঈশ্বরগঞ্জ থানায়ও একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে থানার এএসআই আব্দুল্লাহ আল মাসুম ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পান বলে জানান। দাদন ব্যবসায়ীর ভয়ে জামির ও তার ছেলে জুলহাস বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। একমাস অতিবাহিত হওয়ার পরও জামিরের ঘরের দরজায় দাদন ব্যবসায়ীর তালা ঝুলছে।