কুষ্টিয়ায় ২২ দফা দাবি আদায়ে অনড় ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর (বিএটি) আন্দোলনরত মৌসুমী শ্রমিকরা। শ্রমিকদের দাবি আদায়ে চলছে লাগাতার কর্ম বিরতি। কর্মসূচীর ১৭তম দিন অতিবাহিতের পরও শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া পূরনে কর্তৃপক্ষের মেলেনি সাড়া। ফলে লাগাতার শ্রমিক আন্দোলন ও কর্ম বিরতিতে বিএটির কুষ্টিয়াস্থ প্লান্ট অচল হয়ে পড়েছে। এদিকে দাবি না মানলে বিএটির ডিপোসহ সকল কার্যক্রম বন্ধের হুমকি দেন আন্দোলনরত শ্রমিকরা।
জানা যায়, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী ২০১২ সাল থেকে কোম্পানীর কাছ থেকে পাওনা লভ্যাংশ, শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাচ্যুইটি, চাকুরীচ্যুত ১৬ শ্রমিকের চাকুীরতে পূনর্বহালসহ ২২ দফা দাবি আদায়ে বিএটি কুষ্টিয়াস্থ প্লান্টে কর্মরত প্রায় দেড় শত মৌসুমী শ্রমিক নামেন আন্দোলনে। দাবি আদায়ে অনড় মৌসুমী শ্রমিকরা প্রথম দফায় পরিবারের সদস্যসহ দুই সপ্তাহব্যাপী অফিস ঘেরাও, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা কর্মসুচী পালন করেছে। পরবর্তীতে বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা লাগাতার কর্ম বিরতি চালিয়ে আসছে।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার (১৩ মে) আন্দোলনের ১৭তম দিনে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আন্দোলনরত শ্রমিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিএটি কর্মকর্তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রথম দফা বৈঠক শেষে বিকালে দ্বিতীয় দফা বৈঠক চলছিল। ফলে ওই বৈঠকের সর্বশেষে খবর জানা যায়নি।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মৌসুমী শ্রমিকদের আইনানুগ ২২ দফা দাবি বাস্তবায়নে নির্ধারিত সময় বেঁধে দিলেও ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কর্তৃপক্ষ তা পুরোপুরি প্রতিপালন করেনি। ফলে চরমভাবে ফুঁসে উঠেছে বঞ্চিত মৌসুমী শ্রমিকরা। এরআগে শ্রম আইন লংঘনের অভিযোগে ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকোর (বিএটি) কুষ্টিয়াস্থ প্লান্ট ম্যানেজারসহ উর্ধ্বতন চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা করা হয়। কল কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের কুষ্টিয়াস্থ শ্রম পরিদর্শক ফারজুন ইসলাম বাদী হয়ে খুলনা শ্রম আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
তামাক, সিগারেট ও অন্যান্য নিকোটিন পণ্য তৈরি ও বিক্রয়কারি ব্রিটিশ বহুজাতিক কোম্পানি (বিএটি) কুষ্টিয়া জেলায় খাদ্য-শষ্য উৎপাদন নিরুৎসাহিত করে ওই কোম্পানির পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর, মিরপুর উপজেলা এবং চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার হাজার হাজার হেক্টর আবাদি জমিতে চাষ করা হচ্ছে বিষাক্ত তামাক।
বিএটির শ্রমিক নাজমুল ইসলাম জানান, নায্য দাবি আদায়ে শ্রমিকরা অনড়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের কর্মবিরতি চলবে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএটি বাংলাদেশের একজন মূখপাত্র জানান, বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনে দাবিগুলোর অধিকাংশ সমাধানে কাজ চলছে। তবে অবশিষ্ট কিছু দাবি শ্রম আইনের বাইরে বলে সেগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে ওই মুখপাত্র জানান।
