রুপলালের রূপ নেই!

আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৯, ১৯:৫২

সদরঘাটের পাশেই ফরাশগঞ্জ, সেখানেই রুপলাল হাউজের অবস্থান। ঊনিশ শতকে ১৯শ’ একরের বিশাল আয়তন নিয়ে রুপলাল সেন তৈরি করেছিলেন রুপলাল হাউজ। তখনকার দিনে সৌন্দর্য, জৌলুসে রুপলাল হাউজ ছিল আহসান মঞ্জিলের সমান। কথিত আছে, এককালে ব্রিটিশরা ঢাকা এলে রুপলাল হাউজে রুম ভাড়া নিয়ে থাকতেন। তত্কালীন আমলে রুম ভাড়া ছিল ২০০ টাকা। ঢাকার নবাব আর রুপলাল বাবুদের মধ্যে একটা ঠাণ্ডা যুদ্ধ সবসময় লেগে থাকতো। সেসময় ঢাকা শহরে নাচঘর বা বলরুম ছিল শুধু আহসান মঞ্জিল আর রুপলাল হাউজে। ১৮৮৮ সালে কোনো এক সময় লর্ড ডাফরিন ঢাকায় আসেন। তাঁর সম্মানে নাচ-গানের আসর বসবে এই নিয়ে প্রতিযোগিতায় নামে ঢাকার নবাব আর রুপলাল বাবুরা। সেসময় অনেক বেশি ভোটে বিজয়ী হয় রুপলাল হাউজ। এখন পান-মসলার আঁড়তের ভিড়ে হারিয়ে গেছে পুরোনো আধিপত্য। দেবত্তর সম্পত্তি এখন জামাল বাবুদের দখলে। সে আরেক ইতিহাস। রুপলাল হাউজ যে আমাদের ঐতিহ্য ছিল সে কথাও হয়তো কিছুদিন পর মানুষ মনে রাখবে না। খাতা-কলমে রুপলাল হাউজ এখনো টিকে আছে। এই বাড়ি এখন পুরাটাই মশলার আঁড়ত্। ফরাশগঞ্জের আদি বাসিন্দা ছাড়া হয়তো কেউ আপনাকে এই বাড়ির সঠিক হদিস দিতে পারবে না। ঊনবিংশ শতাব্দির শুরুর দিকে ব্যবসায়ী রুপলাল দাশ বাড়িটির গোড়াপত্তন করেন। এরপর একে একে ওনার বংশধররা বাড়িটি সম্প্রসারণ করে। টাকা-পয়সা দাম্ভিকতায় কোনো অংশেই তত্কালীন ঢাকা নবাবদের থেকে পিছিয়ে ছিল না রুপলাল দাশের বংশধর। ১৯৭১ স্বাধীনতাযুদ্ধ পূর্বেই দেশত্যাগ করে রুপলাল দাশের বংশধর যোগেন্দ্র দাশ। ১৯৭৪ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এ পরিত্যক্ত বাড়িটি রক্ষী বাহিনীর জন্য রিকুইজিশন করে নেন। রক্ষী বাহিনীর বিণুপ্তি ঘোষণার পর ১৯৭৬ সালে রুপলাল হাউজ পরিত্যক্ত সম্পত্তি ঘোষিত হয়। পরবর্তী সময় থেকে এ বাড়িটি পূর্ত মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে আছে। বর্তমানে সংস্কারের অভাবে বাড়িটি সেই আগের জৌলুস নেই।