উন্মুক্ত ফলের বাগান

আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৯, ১৯:৫৩

আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে ঋতুর ক্ষেত্রেও এখন অনেক ধরনের পার্থক্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। পুরো পৃথিবীতেই চলছে তীব্র তাপদাহ, শীত অথবা বন্যা। নাতিশীতোষ্ণ দেশ বলে পরিচিত আমাদের বাংলাদেশেও এখন তীব্র তাপ, অনাবৃষ্টি, খরা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ রকম পরিবর্তন থেকে রেহাই পেতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। আর সেই গাছ থেকে যদি সুস্বাদু আর পুষ্টিকর খাবার পাওয়া যায় তবে সেই সকল বৃক্ষই বেশি বেশি রোপণ করা দরকার, বিশেষ করে লোকালয়ে।

আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষদের জন্য এখন ফল প্রায় দুষ্প্রাপ্য। শহুরে জীবনে অনেকেই আছেন যাঁর হয়তো পরিবারের জন্য ফল কিনতে পারেন না। এ সকল সমস্যা বিবেচনায় ২০১৪ সাল থেকে সহনাগরিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিভিন্ন শহর কেন্দ্রিক লোকালয়ে উন্মুক্ত ফলের বাগান তৈরি করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছর ৫ জুলাই থেকে ১৩৮টি ২১ জাতের ফল গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে নতুন ফলের বাগান তৈরির কার্যক্রম শুরু করা হয়। এ পর্যায়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের আশেপাশের খালি স্থানে বাহ্যিক সৌন্দর্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে পরিকল্পনা মতো সফেদা, লিচু, পেয়ারা, বেল, তেঁতুল, জামরুল, নারিকেল, খেজুর, গোলাপ জাম, জাম, আমলকি, লটকনসহ ২১ জাতের দেশি-বিদেশি ফলের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহনাগরিক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাঈদুল ইসলাম সোহাগ, সংগঠনটির গভর্নিং বডির অন্যান্য সদস্য, সেচ্ছাসেবক, সাধারণ সদস্যসহ এলাকার সাধারণ জনগণ।

প্রকৃতিবিমুখ নগরায়ন চর্চার ফলে শহর এবং অন্যান্য লোকালয় থেকে দ্রুত ফলের গাছ হারিয়ে যাচ্ছে, এমনকি ফলের গাছ রোপণ করার মতো জমির পরিমাণও খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। উম্মুক্ত পতিত জমি, রাস্তার ধারের অব্যবহূত স্থান, পার্ক, অ্যাপার্টমেন্টের সামনে যেখানে মাটি আছে সেখানেই নতুন ফলের বাগান তৈরি করা দরকার। প্রতিবছর বর্ষা ঋতুতে ‘বর্ষা উত্সব’-এর মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ করলে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদাও মিটবে। সকলের এই প্রচেষ্টা আর সচেতনতাই পারে একটি সুন্দর সবুজ দেশ গঠন করতে।