ফুল

কচুরিপানা

আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৯, ২০:২৭

কচুরিপানার আদি নিবাস আমেরিকার ব্রাজিল। পরিবার Pontederiaceae, উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Eichhornia crassipes। কচুরিপানা মূলত জলজ উদ্ভিদ। গাছ পানিতে ভেসে থাকে এবং শেকড় নিমজ্জিত থাকে পানিতে, যার মাধ্যমে গাছ তার প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান সংগ্রহ করে। আমাদের দেশে নদী, খাল-বিল, মজাপুকুর, ডোবা-নালাতে কচুরিপানা খুব সহজে বেড়ে উঠতে দেখা যায়। এদের বংশ বিস্তার বছরের পর বছর টিকে থাকে। গাছের বৃদ্ধি খুবই দ্রুত গতিতে হয়। এরা পানি প্রবাহের সঙ্গে এক জায়গা থেকে অন্যত্র ভেসে গিয়ে বংশ বিস্তার ঘটায় খুব সহজে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে জলাভূমির পানি শুকিয়ে গেলেও আর্দ্র  সেঁতসেঁতে ভেজা মাটিতে টিকে থাকতে এদের কোনো সমস্যা হয় না। তবে কচুরিপানা বেশি জায়গা নিয়ে অধিক পরিমাণে বৃদ্ধির ফলে জলজ পরিবেশে অন্যান্য প্রাণীর বসবাস অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পাতা গাঢ় সবুজ, গোলাকার, বড় এবং বেশ পুরু। গাছের গড় উচ্চতা এক থেকে তিন ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। লম্বা ডাঁটায় অসংখ্য নরম কোমল পাপড়িযুক্ত বেগুনি সাদা ও হলুদ মিশ্রণের ফুল ফোটে।  ফুল গন্ধহীন। ফুল ফোটার প্রধান সময় গ্রীষ্মের শুরু, বর্ষা এবং হেমন্ত। সবচেয়ে বেশি ফুল ফোটে হেমন্তে। এ সময় কচুরিপানাযুক্ত জলাধার ফুলে ফুলে ভরে যায়, যা খুবই দৃষ্টিনন্দন।

গ্রামাঞ্চলে কচুরিপানা গোখাদ্য হিসেবে ব্যাপক ব্যবহার হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। এর রয়েছে বেশ ভালো উপকারী দিক। ইদানীংকালে গবেষণায় দেখা গেছে, কচুরিপানা থেকে কাগজের মণ্ড ও উন্নত মানের কাগজ উত্পাদন করা সম্ভব এবং তা আমদানিকৃত কাগজের তুলনায় খারাপ মানের নয়। এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞগণ ইতিবাচক ফলাফলও পেয়েছেন। কচুরিপানা থেকে কাগজ উত্পাদনে একদিকে খরচ কম পড়বে, অন্যদিকে উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো যন্ত্র ব্যবহারের দরকার পড়বে না। ফলে বাঁশের ওপর চাপ কমবে এবং পরিবেশসহ সকল অংশে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।