বর্ণবাদে বিপাকে ট্রাম্প!

আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৯, ২০:৩০

বর্ণবাদ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আলোচনা নতুন নয়। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে-পড়ে তাঁর এই ধরনের মন্তব্য সমালোচনার খোরাক জুগিয়েছে। ক্ষমতায় আসার পর তাঁর বর্ণ নিয়ে বিপাকে পড়ার ঘটনা ঘটে ২০১৭ সালে। এরপর সম্প্রতি আবারো বর্ণবাদ নিয়ে মন্তব্য করে বিশ্বজুড়ে নিন্দার মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

যা বলেছেন এবং যাদের বলেছেন: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত ১৪ জুলাই একসঙ্গে তিনটি টুইট করেন। তিনি লিখেছেন, খুবই অবাক লাগে যখন প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসের নারী সদস্যরা যাঁরা এমন দেশ থেকে এসেছেন যেখানে তাঁদের সরকার বিপর্যস্ত, সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত ও সবচেয়ে অদক্ষ তাঁরা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে ক্ষমতাশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্রে এসে এখানকার মানুষদের বলছেন কীভাবে সরকার পরিচালনা করতে হবে। তাঁরা কেন নিজেদের অপরাধপ্রবণ দেশে ফিরে গিয়ে পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটান না! তারপর ফিরে এসে আমাদের জানালেই পারেন যে কীভাবে তাঁরা সেই কাজ সম্পন্ন করলেন। এরপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির নাম উল্লেখ করেছেন। কারণ স্পিকারের সঙ্গে এক নারী কংগ্রেস সদস্যের বিরোধ তৈরি হয়েছিল।

ট্রাম্প তাঁর টুইটে কারো নাম উল্লেখ করেননি। তবে টুইটের ভাষা থেকে ধারণা করা হয়, মিনেসোটার কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর এবং মিশিগানের রাশিদা তালিবকে লক্ষ্য করে টুইট করেছেন ট্রাম্প। কারণ টুইটে ট্রাম্প ‘তাঁরা ইসরাইলকে মনেপ্রাণে ঘৃণা করেন’ বলে উল্লেখ করেছেন। সম্প্রতি ওমর ও তালিব ইসরাইল নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ান। ইলহান ওমর প্রায় তিন দশক আগে ১০ বছর বয়সে যুদ্ধবিধ্বস্ত সোমালিয়া থেকে পালিয়ে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। বাকি তিনজন নিউইয়র্কের আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ এবং ম্যাসাচুসেটসের আয়ানা প্রেসলি এবং ফিলিস্তিন বংশোদ্ভূত নারী তালিবের জন্ম ও বেড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রে। ন্যান্সি পেলোসির সঙ্গে ওসারিও-কর্টেজের কিছুটা দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। ওসারিও-কর্টেজ স্পিকার পেলোসির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা বিল নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের সময় বিভিন্ন বর্ণের নারী কংগ্রেস সদস্যদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করেছেন তিনি।

বিপাকে ট্রাম্প: যে ন্যান্সি পেলোসির পক্ষ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বর্ণবাদী মন্তব্য করেছেন সেই স্পিকার পেলোসিও সমালোচনা করে লিখেছেন, মন্তব্যটি জেনোফোবিক (বিদেশিদের সম্পর্কে অহেতুক আতঙ্ক তৈরি করার প্রবণতা)। আমাদের বৈচিত্র্যই আমাদের শক্তি এবং একতাই আমাদের ক্ষমতা। ট্রাম্পের এই মন্তব্য ডেমোক্র্যাটরা তো বটেই, রিপাবলিকান রাজনীতিবিদদের অনেককেই সমালোচনা করতে দেখা গেছে। সাবেক রিপাবলিকান শীর্ষনেতা জন ম্যাককেইনের মেয়ে মেগ্যান ম্যাককেইন (রিপাবলিকান সমর্থক কলামিস্ট) বলেন, এই মন্তব্য বর্ণবাদী। এছাড়া ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে, জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল, ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোসহ অনেক বিদেশি রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিন্দা জানিয়েছেন।

ট্রাম্পের যত বর্ণবাদী টুইট: প্রথমত, স্পেনে একাধিক সন্ত্রাসী হামলার পর ট্রাম্প চরম ইসলামপন্থিদের শায়েস্তা করতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় এক মার্কিন জেনারেলের নৃশংস পদ্ধতি থেকে শিক্ষা নেবার পরামর্শ দেন। শুকরের মাংসে ডোবানো বুলেট দিয়ে জেনারেল পার্শিং ফিলিপাইন্সে ইসলামি বিদ্রোহীদের কীভাবে শায়েস্তা করেছিলেন ট্রাম্প পরোক্ষভাবে সেই কাহিনীর উল্লেখ করেন। দ্বিতীয়ত, নব্য নািস ও চরম দক্ষিণপন্থি গোষ্ঠীগুলোর হিংসাত্মক তাণ্ডবের পর আমেরিকাসহ গোটা বিশ্বে যখন সমালোচনার ঝড় উঠেছে, ট্রাম্প তখন তাণ্ডবকারী ও প্রতিবাদকারীদের ঢালাওভাবে হিংসার জন্য দায়ী করেন। তৃতীয়ত, শার্লটসভিলে কান্ডের পর দুইটি উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা নব্য নািসদের প্রতি নরম মনোভাবের প্রতিবাদে প্রকাশ্যে ট্রাম্পের সমালোচনায় সোচ্চার হয়ে ওঠেন। তাঁরা পরিষদ ভেঙে দেবার উপক্রম করলে ট্রাম্প টুইটার বার্তায় সেই ঘোষণা করে লেখেন, তিনি ব্যবসায়ীদের চাপের মুখে ফেলতে চান না।