ভুল স্বীকার করলেন ধর্মসেনা

আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৯, ২০:৪৯

ফাইনালে ওভার থ্রো থেকে ইংল্যান্ডকে অতিরিক্ত একটা রান দিয়ে তিনি অনেকের চোখেই রীতিমতো ভিলেনে পরিণত হয়েছেন। আইসিসির এলিট প্যানেলভুক্ত আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা অবশ্য সেই ফাইনালের সপ্তাহ খানেক কেটে যাওয়ার পর ঠিকই নিজের ভুল স্বীকার করে নিয়েছেন।

শ্রীলঙ্কান গণমাধ্যমকে ধর্মসেনা বলেন, ‘আমি সহকর্মী মারিয়াস ইরাসমুসের সাথে কথা বলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটা আমার জন্য অনেকটা নো-বল বা ওয়াইড ডাকার মতো ব্যাপার ছিল। তাই থার্ড আম্পায়ারের সাথে কথা বলার প্রয়োজন মনে করিনি। আমি নিজের ভুলটা স্বীকার করে নিচ্ছি।’

ঘটনা গেল ১৪ জুলাইয়ের। বিশ্বকাপের ফাইনালে লর্ডসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ তিন বলে তখন জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের দরকার নয় রান। বোলিংয়ে ট্রেন্ট বোল্ট। ব্যাটিংয়ে বেন স্টোকস। নন স্ট্রাইকে ছিলেন আদিল রশিদ। স্টোকস যে করেই হোক স্ট্রাইক ধরে রাখতে মরিয়া ছিলেন। কারণ, তিনি স্ট্রাইক পাল্টালেই ট্রফি হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার শঙ্কার মুখে পড়তে হতো ইংল্যান্ডকে।

শেষ ওভারের চতুর্থ বলটায় মিড উইকেটে ঠেলে দিয়ে দুই রান নেয়ার চেষ্টা করেন স্টোকস। ওপার থেকে বল থ্রো করেন মার্টিন গাপটিল। শেষ প্রান্তে পৌঁছাতে ড্রাইভ দেন স্টোকস।

বলটি তার ব্যাটে লেগে বাউন্ডারিতে চলে যায়। ব্যাট হাতে দুই আর ওভার-থ্রো তে চার রান মিলে ইংল্যান্ডের স্কোরবোর্ডে ছয় রান যোগ করার নির্দেশ দেন লঙ্কান আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা। শেষ দুই বল থেকে ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য তিন রান দরকার ছিল। ইংল্যান্ড করে দুই রান। ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। সুপার ওভারে দুদলই ১৫ করে রান করলে বাউন্ডারিতে এগিয়ে থেকে বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নেয় ইংল্যান্ড।

ম্যাচ শেষে ওই ওভার থ্রোর ডেলিভারিতে ছয় রান আসা নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। আইসিসির আইনের ১৮.৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী অভার থ্রোতে যদি বাউন্ডারি আসে, তাহলে দৌড়ে নেয়া রানের সাথে সেটা যোগ হয়। তবে সেক্ষেত্রে বাউন্ডারির সাথে দৌড়ে নেয়া রান ততগুলোই যোগ হবে যতগুলো ব্যাটসম্যানরা শেষ করেছে।

অর্থাত্, ফিল্ডার বল থ্রো করার মুহূর্তে যদি ব্যাটসম্যানরা একে অপরকে অতিক্রম করে তবেই সেই রান যোগ হবে। টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা গেছে, রশিদ ও স্টোকস একে অপরকে অতিক্রম করার আগেই গাপটিল থ্রো করেছিলেন। সেক্ষেত্রে, নিয়ম অনুযায়ী ইংল্যান্ড ছয় না, বরং পাঁচ রান পায়।

আর সেই একটা রান কমে গেলেই আর সুপার ওভারে যাওয়ার প্রয়োজন পরে না। নিউজিল্যান্ড জিতে যায়। ধর্মসেনা বলেন, ‘আমি শতভাগ নিশ্চিত ছিলাম যে, ব্যাটসম্যানরা নিজেদের অতিক্রম করে ফেলেছে। আমি মনে করি এই নিয়মটা পালটানো দরকার। বলটা যদি, স্ট্যাম্পে লাগে বা এমনিতেই চার হয়ে যায় তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু, বল যদি ব্যাটসম্যানের শরীরে লাগে তখন সেটা ডেড বল হওয়া উচিত।’

ব্রিটিশ গণমাধ্যম দাবি করেছিল বেন স্টোকস নাকি নিজে থেকেই আম্পায়ারদের বলেছিলেন, ওভার থ্রো থেকে আসা চারটি রান ফিরিয়ে নিতে। কিন্তু, ধর্মসেনা অবশ্য জানালেন, এমন অনুরোধ কারো পক্ষ থেকেই তারা পাননি।

যদিও, বিশ্বকাপের ফাইনালে এমন বিতর্ক সৃষ্টির পর আইসিসির ওভার থ্রোয়ের নিয়ম পুনরায় পর্যালোচনার চিন্তা করছে ক্রিকেট আইন দেখভালের দায়িত্বে থাকা মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)। এমসিসির আইন উপ-কমিটির আইন বিষয়ক পরবর্তী বৈঠকে ওভার থ্রো বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া হবে।