আইসিসির সদস্যপদ স্থগিত হয়ে যাওয়ায় কার্যত মহাসংকটে পড়ে গেছে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট। টেস্ট খেলুড়ে দেশটির ক্রিকেটীয় কার্যক্রম ধুম করেই স্থবির হয়ে পড়েছে। বলা চলে দেশটির আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেট অনেকটাই নির্বাসনে চলে যাচ্ছে। কারণ আইসিসির সদস্যপদ স্থগিত হওয়ায় ঘরোয়া ক্রিকেট আয়োজন ও এফটিপির প্রতিশ্রুতি পূরণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে জিম্বাবুয়ের জন্য।
ইতিমধ্যে আগামী সেপ্টেম্বরে ত্রিদেশীয় টি-২০ সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসতে পারবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট বোর্ড। এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তারা। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, ‘আইসিসি জিম্বাবুয়েকে একটি গ্লোবাল কোয়ালিফায়ার ইভেন্ট আয়োজন করার সুযোগ দিয়েছে, তবে সেটিও স্থগিত থাকছে। একইসঙ্গে খেলোয়াড় এবং স্টাফরা সরে দাঁড়িয়েছে এবং তাদেরকে হয়তো মাসব্যাপী কিংবা সারা জীবনের জন্য বেতন ও ম্যাচ ফি ছাড়া থাকতে হবে।’
আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বরে স্কটল্যান্ডে নারী টি-২০ বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব, সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে দুবাইয়ে পুরুষদের টি-২০ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে জিম্বাবুয়ের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এই সাময়িক বহিষ্কারাদেশের কারণে। অক্টোবরে বোর্ডসভায় জিম্বাবুয়ের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে আইসিসি। বোর্ড পরিচালনায় সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে সর্বশেষ বোর্ডসভায় জিম্বাবুয়ের সদস্যপদ স্থগিত করেছিল আইসিসি। যার ফলে আইসিসির কোনো টুর্নামেন্ট কিংবা সিরিজে অংশ নিতে পারবে না জিম্বাবুয়ে। তাই সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের মাটিতে ত্রিদেশীয় টি-২০ সিরিজে খেলা হচ্ছে না তাদের। বাংলাদেশ, জিম্বাবুয়ে ছাড়া এই সিরিজে আরেকটি দল হচ্ছে আফগানিস্তান। আর জিম্বাবুয়ে না আসলে সূচি অনুযায়ী আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ।
বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন গতকাল সাংবাদিকদের এমনটাই বলেছেন। মিরপুর স্টেডিয়ামে তিনি বলেন, ‘আমাদের এফটিপি কমিটমেন্টে ছিল দুই দলেরই সিরিজ। এটি একটি বাড়তি ব্যাপার ছিল। এই অবস্থার ব্যাপারে সতর্ক আমাদের স্পন্সররা।’
জিম্বাবুয়ের অনুরোধেই ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনের চিন্তা করেছিল বিসিবি। আফগানিস্তানের বাংলাদেশ সফরে একটি টেস্ট ও দুটি টি-২০ ছিল। জিম্বাবুয়ের অনুরোধে ত্রিদেশীয় টি-২০ সিরিজ আয়োজনে সম্মত হয় বিসিবি। এখন আফগানিস্তানের সঙ্গে প্রতিশ্রুত দ্বিপাক্ষিক সিরিজটাই খেলবে বাংলাদেশ।
নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন গতকাল বলেছেন, ‘জিম্বাবুয়ের অনুরোধের কারণেই তাদের নিয়েছিলাম। ত্রিদেশীয় সিরিজ হলে হয়ত আরো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে এই বিবেচনা করেই নিয়েছিলাম। আমাদের যে কমিটমেন্ট আফগানিস্তানের সঙ্গে আছে তা অব্যাহত থাকবে।’
এদিকে আইসিসির সদস্যপদ স্থগিত হওয়ায় চরম হতাশায় পড়েছেন জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটাররা। সিকান্দার রাজা বলেছেন, এর কারণে অনেক ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে। ইতিমধ্যে অলরাউন্ডার সলোমন মিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া জিম্বাবুয়ের নারী দলের আয়ারল্যান্ড সফরটা শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়ে গেছে।
ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ফিকা আইসিসিকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে। ফিফার এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান টনি আইরিশ বলেছেন, ‘আগের বোর্ডের অধীনে বছরের পর বছর কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন কাটিয়েছে জিম্বাবুয়ের খেলোয়াড়রা। ঘরোয়া ক্রিকেটে কিছু খেলোয়াড় দিনে আয় করে দিনে খাওয়ার মতো তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। এখানে মানবিক একটা দিক রয়েছে, আমরা বিশ্বাস করি এটি বিবেচনা করা উচিত।’
