নওগাঁয় ১২ হাজার কোটি টাকার গবাদিপশু বিক্রির আশা, ব্যস্ত খামারিরা

আপডেট : ১৮ মে ২০২৫, ০৯:৫৮

আর কিছুদিন পরেই ঈদুল আযাহার। এরই মধ্যে কোরবানির পশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন নওগাঁর ছোট-বড় খামারিরা। ক্রেতাদের দৃষ্টি আর্কষণ করতে প্রাকৃতিকভাবে মোটাতাজাকরণ করেছেন গরু, ছাগল, ভেড়া, গারল ও মহিষ। আসন্ন ইদুল আযাহায় স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর ১০ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকার পশু বিক্রির আশা করছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। এদিকে দেশের বাহির থেকে গরু আমদানি না করতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন খামারিরা। 

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর জানায়, আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জেলার ১১টি উপজেলার ছোট-বড় ৩৮ হাজার ৫৭৩টি খামারি তাদের গবাদিপশু প্রস্তুত করেছেন। বিশেষ অফার হিসেবে অনেক খামারি ঈদের আগে ক্রেতাদের ক্রয় করা গরু বিনামূল্যে বাড়ি পৌছে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।  আর ক্রেতারা বাড়তি ঝামেলা এড়াতে সেই অফার গ্রহণ করে খামারেই কোরবানির গরু কিনছেন। চলতি বছর জেলায় কোরবানির জন্য গবাদিপশুর চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৪৩৭টি। আর প্রস্তুত করা হয়েছে ৭ লাখ ৮৮ হাজার ৩২০টি গবাদীপশু। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর বাড়তি গবাদিপশু চট্টগ্রাম, সিলেট, ঢাকা ও ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বেপারীরা সরাসরি এসে নওগাঁর বিভিন্ন পশুর হাট থেকে গবাদীপশু কিনে নিয়ে যায়। এবারের কোরবানির গরুগুলো খামারে ৫০০-৫৫০ টাকা দরে কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

রাণীনগর উপজেলার আরকে এগ্রো কমপ্লেক্সের খামারী আসাদুজ্জামান জন বলেন সম্পন্ন প্রাকৃতিক উপায়ে তাদের খামারে এবার শাহীওয়াল, ফিজিয়ান ও দেশীজাতের শতাধিক ষাঁড় মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে। তবে প্রতিনিয়তই প্রাকৃতিক ভাবে পশু মোটাতাজাকরণের সকল পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই আসন্ন ইদুল আযাহার হাটগুলোতে যদি গবাদিপশুর দাম ভালো পাওয়া যায় তাহলে খামারীরা বাঁচবে। আর যদি বাহিরে থেকে গরু আমদানী করা হয় তাহলে সকল শ্রেণির খামারীরা লোকসানে পড়বে। তাই খামারীদের বাঁচাতে বাহির দেশ থেকে গরু আমদানী না করতে এবং প্রতিটি পণ্যের দাম কমাতে সরকারের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন এই খামারী।

রাণীনগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রফি ফায়সাল তালুকদার ইত্তেফাককে বলেন, প্রাকৃতিক উপায়ে গবাদিপশু মোটাতাজাকরণ করতে প্রতিনিয়তই প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে খামারিদের সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিটি ইউনিয়নে গিয়ে খামারিদের অংশগ্রহণে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করে গবাদিপশু মোটাতাজাকরণ করলে, সেই পশুর মাংস খেলে ভোক্তাদের কি কি মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে; সেই বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আসন্ন ইদুল আযাহাকে সামনে রেখে খামারিরা প্রাকৃতিক উপায়ে গবাদিপশু মোটাতাজাকরণ করছেন কি-না সেই বিষয়ে সব সময় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। তাই এবার ভোক্তারা অনেকটাই প্রাকৃতিক উপায়ে বড় করা গবাদিপশুগুলো কোরবানি দিতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মাহফুজার রহমান ইত্তেফাককে বলেন, এবার স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর চার লক্ষাধিক গবাদিপশু উদ্বৃত্ত থাকছে। যা জেলার বিভিন্ন হাটে বিক্রির মাধ্যমে ১০ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা বিক্রির আশা করা হচ্ছে। এবার যেহেতু দেশের বাহির থেকে কোনো গবাদিপশু আমদানি করবে না সরকার, সেহেতু জেলার ছোট-বড় সকল শ্রেণির খামারিরা গবাদিপশুর ভালো একটা দামে বিক্রির মাধ্যমে লাভবান হতে পারবেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে যেন কোন ঝামেলা ছাড়াই সুন্দর পরিবেশে নওগাঁর হাটগুলো থেকে গবাদিপশু কিনতে পারেন, সেই লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে প্রাণিসম্পদ দপ্তরও একযোগে কাজ করছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাফিউল সারোয়ার বলেন, পশুর হাটকে কেন্দ্র করে জেলার কোনো সড়ক কিংবা মহাসড়কে যেন কেউ কোনো চাঁদা আদায় করতে না পারে; সেই জন্য জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া জেলার প্রতিটি হাটের পরিবেশ সুন্দর রাখার লক্ষ্যে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি পোষাকধারী পুলিশের সঙ্গে সাদা পোষাকধারী পুলিশ সদস্যরাও পশুর হাটে দায়িত্ব পালন করবেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল ইত্তেফাককে বলেন, জেলার হাটগুলোতে যেন কেউ গবাদিপশুসহ সকল পণ্যের অতিরিক্ত খাজনা আদায় করতে না পারে, সেই লক্ষ্যে সারা বছরই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলমান রয়েছে। তবে কোরবানির সময় কোনো চক্র যেন কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয়ে কোনো ধরনের অরাজকতার সৃষ্টি করতে না পারে; সেই লক্ষ্যে প্রতিটি হাটে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শুরু করা হয়েছে। এই অভিযান আগামীতে আরও কঠোর করা হবে। কোরবানির পশু ক্রয় ও বিক্রয় সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিগত সময়ের চেয়ে এবার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে মাঠপর্যায়ে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত সব সময় কাজ করবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।    
 

ইত্তেফাক/কেএইচ