কমলগঞ্জে ধলাই নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি

আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৯, ২১:০১

 ‘ধলাই নদীর ভাঙনে আমাদের বসতবাড়ির মাটিটাও বন্যায় নিয়ে গেছে। এখন থাকার জায়গাটুকুও নেই। পার্শ্ববর্তী সৈয়দ শাহীন মিয়ার মোরগের খামারে থাকিয়া দিন কাটারাম। কই যাইমু, কই থাকমু কোন হিসাব পারাম না।’ ক্ষোভে-দুঃখে কথাগুলো বলছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলার পৌরসভা এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রামপাশা গ্রামের নদীভাঙনে নিঃস্ব মনিন্দ্র মালাকার।

বন্যা পরবর্তী গত বৃহস্পতিবার সরেজমিন ধলাই নদীর ভাঙনকৃত রামপাশা এলাকা ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টানা বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢল নেমে গত ১২ জুলাই শুক্রবার দিবাগত রাতে রামপাশা এলাকায় ধলাই নদীর ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়। একদিনের ব্যবধানে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রবিবার পুনরায় একই গ্রামে নতুন করে আরো একটি ভাঙন দেখা দেয়। ফলে গ্রামের জয়ধন মালাকার, যোগিন্দ্র মালাকার, মনিন্দ্র মালাকার, সুনীল মালাকার, সরজিনী দেবনাথ ও লাইলী বেগমের বসতঘর বিলীন হয়ে যায়। এই ছয়টি পরিবার পার্শ্ববর্তী বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মোরগের খামারে ঠাঁই নিয়ে কোনোমতে দিন কাটছে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রায় ২০০ কিয়ার জমি নদীর বিপরীত পাশে চলে গেলেও সেখানে তাদের আর অধিকার নেই। অন্যেরা সেসব স্থান নিজেদের দখলে নিচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্তরা ত্রাণের পরিবর্তে পুনবার্সন ও নদীর সংস্কার কাজে বাঁক কেটে গতিপথ সোজা করে এবং মজবুত প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

রামপাশা গ্রামের জয়ধন মালাকার বলেন, নদী আমাদের সবকিছু নিয়ে গেছে। সন্তানাদি নিয়ে রামপাশা বালিকা স্কুলে আশ্রয় নিয়েছি। যোগিন্দ্র মালাকার বলেন, গ্রামের সৈয়দ আব্দুর রহিম-এর একচালা টিনের ঘরে আশ্রয় নিয়েছি। নদীভাঙনে নিঃস্ব হওয়া সুনীল মালাকার, লাইলী বেগম ও মনিন্দ্র মালাকার বলেন, ‘নদীর ভাঙনে আমাদের শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে ফেলেছি। এখন মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও নেই। বন্যার এক সপ্তাহ পর্যন্ত আমরা কিছু ত্রাণ ও কিছু চাল ছাড়া আর কিছুই পাইনি। আয় রোজগারও করতে পারছি না। অভাব অনটনে দিনযাপন করছি।’

ঢলের প্রবল সে াতে ঘর ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া রত্না পাল বলেন, ‘ঘর ভেঙে যাওয়ায় এখন পার্শ্ববর্তী নির্মল পাল চৌধুরীর ঘরে আছি।’

কমলগঞ্জ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার রাসেল মতলিব তরফদার নদীভাঙন ও বন্যায় ছয়টি পরিবারের বসতভিটা বিলীনসহ ক্ষতিগ্রস্ত ১২০টি ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ১৫০টি পরিবারের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, রামপাশার ঐ এলাকায় গত ২৫ বছর ধরে ভাঙনে শব্দকর পরিবারগুলো ভিটা হারিয়েছে। তারা কোথায় গেছে বা কোথায় আছে তার কোনো হদিস নেই।

কমলগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র মো. জুয়েল আহমদ বলেন, ইউএনওর কাছে দাবি জানিয়েছি যারা বসতবাড়ি হারিয়েছে তাদের ঘর করে দেওয়ার জন্য। তাছাড়া যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের সহায়তা প্রদানের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, নদীভাঙনে বিলীন হওয়া ও বন্যায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিক তৈরি করা হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে এসব ব্যক্তিদের ঘর করে দেওয়ার জন্য আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি এবং পরিপূর্ণ তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া প্রাথমিকভাবে সরকারিভাবে আসা চাল ও কিছু ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।