ডুবে গেছে চারণভূমি

আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৯, ২১:১১

বন্যায় সিরাজগঞ্জ ও প্রতিবেশী পাবনা জেলার শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া,  তাড়াশ, ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়া ও চাটমোহর এই ছয়টি উপজেলার বিস্তীর্ণ গোচারণভূমি ও বাথান এলাকা বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। ফলে এ দুই জেলার ছয় উপজেলার গো-খামার মালিকরা তাদের গবাদিপশু নিয়ে পড়েছে চরম বিপাকে।  কোনোমতে গবাদিপশুগুলো চারণভূমি থেকে এনে উঁচু স্থানে রাখা হয়েছে। যাদের বাড়িতে জায়গা নেই তারা সড়ক বা বাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছে। চারণভূমি তলিয়ে যাওয়ায় গবাদিপশুর খাবার  সংকট দেখা দিয়েছে সারা জেলা জুড়ে। ফলে বিপাকে পড়েছে বড়ো বড়ো গো-খামারিরা।

খামারিরা জানান, শাহজাদপুরের পশ্চিমে বয়ে যাওয়া গোহালা নদীর কোলঘেঁষে পোতাজিয়া ইউনিয়নের রাউতবাড়ি, বড়োভিটা, ছোটোভিটা, বুড়িরভিটা, কুটিরভিটাতে এবং কাউয়ার্ক এবং হান্ড্রী এলাকায় গোচারণভূমিগুলোতে প্রতি বছরই বাথান নেওয়া হয়। এই বাথানগুলো এখানে ৬/৭ মাস পর্যন্ত গবাদিপশু বাথান এলাকায় অবস্থান করে। বন্যার পানি গোচারণভূমি থেকে নেমে যাওয়ার পর আবাদকৃত ঘাস খাওয়ার উপযোগী হলেই গবাদিপশু বাথানে নেওয়া হয়।

শাহজাদপুর উপজেলার রেশমবাড়ি গ্রামের গো-খামারি আব্দুর জানান, বন্যার কারণে তারা গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। ঘাসের জামগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ায় তারা কোনোমতে খড় খাওয়াইয়ে পশুগুলো বাঁচিয়ে রেখেছেন। এ ছাড়া বন্যার সুযোগে খইল ভুসিসহ বিভিন্ন ধরনের খাবারের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়াতে তারা বিপাকে পড়েছেন। একই এলাকার সাইফুল ইসলাম জানান, চাহিদা অনুযায়ী গাভিগুলোকে খাবার দিতে না পারায় দিন দিন দুধের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। ফলে তারা লোকসানের মুখে পড়ছেন।

 দুগ্ধ সমিতি সূত্রে জানা যায়, এই এলাকায় প্রায় ১৫০টির অধিক বাথান ছাড়াও ব্যক্তি পর্যায়ে অনেকেই গাভি পালন করে আসছে।  যা থেকে প্রতিদিন গড়ে  প্রায়  ১ লাখ ৩৫ হাজার লিটার দুধ উত্পাদন হয়।

এ ব্যাপারে খামার মালিক ও ধলাই কেন্দ্রীয় দুগ্ধ সমিতির সভাপতি মো. আব্দুস সামাদ ফকির জানান, বন্যায় ঘাসের জমিগুলো ডুবে যাওয়ায় কাঁচা ঘাসের অভাবে দুধের উত্পাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। সঙ্গে সঙ্গে দুধের দামও কমেছে। এ ছাড়া দানাদার খাবারের দামও বেড়েছে দ্বিগুণ বা তার চেয়েও বেশি। তিনি জানান, তিলের খইল বন্যার আগে ছিল প্রতিবস্তা ২ হাজার টাকা তা এখন বেড়ে ২ হাজার ৭০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া গমের ভুসিও কেজি প্রতি চার/পাঁচ টাকা বেড়েছে। এ ছাড়া সব ধরনের দানাদার খাবারের দাম বস্তা প্রতি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বেড়েছে। এ অবস্থা বিরাজ করলে কৃষকরা যেমন ধানের ন্যায্যমূল্য থেকে  বঞ্চিত হচ্ছে খামারিরাও তাদের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হবে বলে তিনি জানান।