দীর্ঘ ১২ বছর পর চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) মহানগরীতে দুটি আবাসিক প্রকল্পের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। সিডিএর বিগত চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম তার দায়িত্বের ১০ বছরে কোনো আবাসিক প্রকল্প গ্রহণ করেননি। সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্ত সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ এই প্রকল্পের কাজ শুরুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। প্রকল্প দুটির মধ্যে রয়েছে—নগরীর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অক্সিজেনসংলগ্ন অনন্যা আবাসিক প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় এবং ওই প্রকল্পের অনতিদূরে নগরীর হাটহাজারী থানাধীন ফতেয়াবাদ উপশহর প্রকল্প।
সিডিএর সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আকতার হোসেন ১৫ বছর আগে ফতেয়াবাদ আবাসিক প্রকল্পটি গ্রহণ করেন। অবশ্য ওই সময় থেকে এ পর্যন্ত উক্ত এলাকায় ব্যক্তিগতপর্যায়ে কোনো বড় ইমারত নির্মাণের অনুমতি দেয়া হয়নি। কিন্তু সিডিএর পক্ষ থেকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নেরও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। অন্যদিকে, ২০০৮ সালে অনন্যা প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরপরই দ্বিতীয়পর্যায়ের প্রকল্প গ্রহণের বিষয়টি আলোচনায় আসে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে অনন্যা দ্বিতীয়পর্যায় প্রকল্প একনেকে অনুমোদিত হয়। প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদিত হলেও দীর্ঘ দিন ধরে এর বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। সরকার জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ বাবদ মৌজা মূল্যের তিনগুণ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিলে প্রকল্পটি ঝুলে যায়।
জানা যায়, সিডিএর এ দুটি প্রকল্পের মধ্যে অনন্যা দ্বিতীয়পর্যায় প্রকল্পে প্রায় দুই হাজার ছোটো-বড়ো প্লট তৈরি করা হবে। অপরদিকে, ফতেয়াবাদ প্রকল্পে পাঁচ হাজার প্লট তৈরি করা হবে। সিডিএর দুটি প্রকল্প মোটামুটি একই সময়ে শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অনন্যা দ্বিতীয় প্রকল্পে শিগগিরই অধিগ্রহণ ও ভরাট কাজ এবং ফতেয়াবাদ প্রকল্পটির ডিপিপির কাজ শুরু হবে। সিডিএ দুটি প্রকল্প ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভর করে নেয়া হচ্ছে বলে জানা যায়। তবে সিডিএ প্রকল্প বাস্তবায়নে ঋণকৃত টাকার চেয়েও বেশি টাকা প্লট গ্রহীতার নিকট থেকে সংগ্রহ করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। সিডিএর বিগত আবাসিক প্রকল্পের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছিল। সিডিএসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, আবাসিক প্রকল্প গ্রহণে নগরবাসী যেমন উপকৃত হবেন, একইসাথে সিডিএ আর্থিকভাবে লাভবান হবে। সিডিএর পক্ষ থেকে বিগত সময়ে কল্পলোক ও অনন্যা প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের অর্থের সংস্থান হয়েছিল। সিডিএ কর্মকাণ্ডের পরিধিও বেড়েছে।
প্রধান প্রকৌশলী হাসান বিন শামস্ জানান, জনগণের চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে এবং নগর সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রকল্প দুটির কাজ শিগগিরই শুরু করা হবে। প্রকল্প দুটি খুবই নান্দনিক ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে গড়ে উঠবে।
