সিরিয়ার উপর থেকে সকল নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা ইউরোপীয় ইউনিয়নের

আপডেট : ২০ মে ২০২৫, ১৯:৪১

ট্রাম্পের এক ঘোষণার মাধ্যমে সিরিয়ার উপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সকল নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর এবার ইউরোপীয় ইউনিয়নও সকল অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সিরিয়ার বাশার আল-আসাদের শাসনের অবসানের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিকে পুনর্গঠনে সহায়তা করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক বৈঠকে সিরিয়ার উপর থেকে সকল নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা। ছবি: সংগৃহিত

ইইউ’র ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতরা ইতোমধ্যে এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে একটি প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছেন। মঙ্গলবার (২০ মে) ব্রাসেলসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে এলো, যখন মাত্র এক সপ্তাহ আগেই যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলো। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত, মানবিক সংকট এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি সিরিয়া এখন আন্তর্জাতিক সহায়তা এবং পুনর্গঠনের জন্য পশ্চিমা বিশ্বের দিকে চেয়ে আছে।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আল-শারার সঙ্গে এক বৈঠকের পর ট্রাম্প সকল নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ছবি: সংগৃহিত

এর আগে ইইউ প্রথমবারের মতো ফেব্রুয়ারি মাসে কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছিল, যার আওতায় তেল, গ্যাস এবং বিদ্যুৎ খাতে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়। তখন থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল যে, আরও বড় পরিসরে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য ইউরোপীয় দেশগুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এদিকে সিরিয়ার নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্ব পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন দীর্ঘ স্বৈরশাসন ও গৃহযুদ্ধের ক্ষত কাটিয়ে ওঠার সুযোগ দিতে নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নেয়। তাদের মতে, নিষেধাজ্ঞাগুলো সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে এবং দেশটির অর্থনৈতিক ও সামাজিক পুনরুদ্ধারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে ধ্বংস হয়ে যাওয়া সিরিয়ার পূর্ণগঠনে ভূমিকা রাখবে। ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপীয় কূটনীতিকরা মনে করছেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সিরিয়ার মানবিক দুরবস্থা বিবেচনায় এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার একটি সঠিক সিদ্ধান্ত। তবে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগ এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে ইইউ সতর্ক নজরদারি চালিয়ে যাবে বলেও তারা জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত সিরিয়ার সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে শর্ত হচ্ছে, দেশটির নতুন সরকারকে অবশ্যই গণতান্ত্রিক সংস্কার, মানবাধিকার রক্ষা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।
ইইউ-এর এ সিদ্ধান্ত সিরিয়ার পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নতুন ভূমিকার বার্তা দিচ্ছে, যেখানে এক দশকের সহিংসতা ও সংকট শেষে দেশটিকে একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল ভবিষ্যতের পথে ফিরিয়ে আনার আশাবাদ করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

ইত্তেফাক/টিএস