বিদায়ি অর্থবছর ৬২০ কোটি ডলার ছাড় করেছে উন্নয়ন সহযোগীরা

আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৯, ২১:৩৬

বিদায়ি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে ৬২০ কোটি ডলার অর্থছাড় করেছে উন্নয়ন সহযোগীরা। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ প্রায় ৫২ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ইআরডির লক্ষ্য ছিল গেল অর্থবছর ৬৩০ কোটি ডলার ছাড় করা সম্ভব হবে। লক্ষ্যমাত্রা থেকে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও অর্থছাড়ের পরিমাণ আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

ইআরডির হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, গত অর্থবছরে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৯৭ কোটি ডলার ছাড় করেছে বিশ্বব্যাংক। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২১ কোটি ৫০ লাখ ডলার ছাড় করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। ১১৯ কোটি ৪৯ লাখ ডলার ছাড় করেছে জাইকা। আর চীন ছাড় করেছে ৪৫ কোটি ডলার। ইআরডির কর্মকর্তারা বলছেন, গেল অর্থবছর রেকর্ড অর্থছাড় করেছে উন্নয়ন সহযোগীরা। এর আগে সর্বোচ্চ অর্থছাড় হয়েছিল ২০১৭-১৮ অর্থবছর। সেসময় ছাড় করা হয়েছিল ৬১০ কোটি ডলার। সেই হিসাবে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিদেশি সহায়তার ছাড় করা অর্থের পরিমাণ ১০ কোটি ডলার বেড়েছে।

ইআরডির কর্মকর্তা জানান, সরকার বড়ো বড়ো প্রকল্প বাস্তবায়ন করায় বিদেশি ঋণ-সহায়তার গতি বেড়েছে। দেশে চলমান মেগা প্রকল্পগুলোতে বড়ো আকারের ঋণ আসছে। সেইসঙ্গে অর্থছাড়ও বাড়ছে। বিশেষ করে মেট্রোরেল ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র এবং চট্টগ্রামের দোহাজারি থেকে কক্সবাজার হয়ে ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের মতো মেগা প্রকল্পের কারণে উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থছাড় বেড়েছে। উল্লেখ্য, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য সরকার উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বিদেশি ঋণ ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ রয়েছে। ইআরডির হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, গেল অর্থবছর উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে পুঞ্জিভূত পাওনা থেকে ১৫৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। এর মধ্যে আসল কোটি ৮০ লাখ ডলার এবং সুদ হিসেবে ৩৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার পরিশোধ করা হয়েছে।