পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির অবৈধ বিদ্যুত্ সংযোগের কারণেই পঞ্চগড়ে পিতা-পুত্রসহ একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত দালাল ও পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
অভিযোগে জানা যায়, একটি দালাল চক্র ও পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে পঞ্চগড়ের পানিমাছ পুকুরী আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে অবৈধভাবে বাঁশের খুঁটি এবং গাছে একটিমাত্র তার দিয়ে মাহানপাড়া এলাকার প্রায় দশ-বারোটি বাড়িতে অবৈধভাবে বিদ্যুত্ সংযোগ দেয়া হয়েছে। এই সংযোগের একটি তার ছিঁড়ে গিয়ে পানিতে পড়লে শনিবার রাতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারী আব্দুল মজিদ ও তৌহিদুল ইসলাম তাদের বাড়ি থেকে এই সংযোগ দিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে তারা এই ব্যবসা করছেন। সংযোগ দেয়া প্রত্যেক বাড়ি থেকে মাসে ৬০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা নেন। পরিবারের সদস্যরা অবৈধ বিদ্যুত্ সংযোগে যারা জড়িত তাদের বিচার এবং ক্ষতিপূরণের দাবি করেছেন। এ ঘটনা পর পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী হাসপাতালে গিয়ে নিহতের পরিবারকে সান্ত্বনা দেন এবং নিহত পরিবারকে তাত্ক্ষণিক ৫০ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা দেন। এছাড়া অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল মান্নানকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী আল তারিক বলেন, পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ইলেকট্রিশিয়ানরা দরিদ্র মানুষের কাছে টাকা নিয়ে অবৈধভাবে বিদ্যুত্ সংযোগ দিচ্ছে। আর তার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। শুধু এই তিন জনই নয়, এর আগেও পঞ্চগড়ে এ ধরনের প্রাণহানি ঘটেছে।
এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির মহাব্যবস্থাপক আবু আশরাফ সালেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গণমাধ্যমের মাধ্যমে খবরটি পেয়েছেন। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এর সঙ্গে পল্লী বিদ্যুতের কেউ জড়িত থাকলে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব।
