সিলেটের বিভিন্ন সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পুশইন করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ নিয়ে সীমান্তে উদ্বেগ উত্তেজনা বিরাজ করছে। কোন কোন সময় বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের কড়া অবস্থানের পর পুশইন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। তারপরও বিএসফ যেন পিছু ছাড়ছেনা।
সীমান্ত সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (২২ মে) সকাল ৮টার দিকে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া সীমান্ত দিয়ে শিশুসহ ৭ বাংলাদেশিকে পুশইন করেছে বিএসএফ। ভারতের কারফিউ জারির আগে ও পরে বিএসএফ সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে এ নিয়ে মোট ১৭২ জনকে পুশইন করেছে বলে সীমান্ত সূত্র জানায়। পুশ ইন নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সীমান্তে সাময়িক উত্তেজনা দেখা দিলেও বিজিবি ও প্রশাসনের তৎপরতায় তা এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এদিকে সিলেট জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদ বলেন, সীমান্তে কোনো অস্থিরতা না ছড়াতে স্থানীয় জনগণকে সচেতন থাকতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিজিবির তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। আতঙ্কিত না হয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলায় সীমান্তবাসীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
বজিবি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার পুশইনের পর কুলাউড়ার তুতবাড়ি সংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে বিজিবির সদস্যরা ওই সাতজনকে আটক করেন। আটককৃতদের মধ্যে ২ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ৩ শিশু রয়েছে। তারা সবাই কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দা। ৪৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এস এম জাকারিয়া সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, আটককৃতরা বাংলাদেশি নাগরিক। তাদের কুলাউড়া থানায় হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে। কুলাউড়া থানার ওসি মো. গোলাম আফছার বলেন, আটক ব্যক্তিদের থানায় হস্তান্তর করলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে গত ১৫ মে একই সীমান্ত এলাকা দিয়ে ১৪ জনকে পুশইন করা হয়।
সিলেট বিভাগের চার জেলার সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের সঙ্গে ৩০২ কিলোমিটার জুড়ে ভারতীয় সীমান্ত। এ অঞ্চলে বছরের সব কটি দিনেই চোরাচালান, হত্যা ও অনুপ্রবেশের মতো ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। গত ৮ মে থেকে ভারতের মেঘালয় সরকার রাত্রিকালীন সময়ের জন্য কারফিউ জারির আগে ও পরে সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে পুশ ইনের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটে।
বিজিবি জানায়, মৌলভীবাজারের বড়লেখা, কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে সম্প্রতি ১৪৯ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত দিয়েও গত ১৪ মে ১৬ জনকে পুশইন করা হয়। সূত্র মতে ৬ ও ৭ মে বড়লেখার পালাথল ও লাতু সীমান্ত দিয়ে ৬০ জন, ৭ মে কমলগঞ্জের ধলাই সীমান্ত দিয়ে ১৫ জন, ১৪ মে বড়লেখার উত্তর শাহবাজপুর সীমান্ত দিয়ে ৪৪ জন, ১৫ মে কুলাউড়ার মুরাইছড়া সীমান্ত দিয়ে ১৪ জন, ১৫ মে বড়লেখার নিউ পালাথল সীমান্ত দিয়ে ১৬ জন পুশইন করা হয়।
সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (২৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল একেএম জাকারিয়া কাদির বলেন, সীমান্তে টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। চোরাচালান, পুশ ইন বা যে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক ।
অন্যদিকে, সিলেট জেলা পুলিশের মিডিয়া ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা মো. সম্রাট তালুকদার বলেন, সিলেট জেলা পুলিশের অধীনে ৬টি সীমান্তবর্তী উপজেলা রয়েছে। যেখানে ১৮৯ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় পুলিশ সবসময় সতর্ক অবস্থানে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার হয়েছে।
