ইসরায়েলে অধিকাংশ নাগরিক অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতির বিরোধিতা করছেন। ইসরায়েলের চ্যানেল-১৩ পরিচালিত এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। খবর মিডল ইস্ট মনিটরের।
জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৫৩ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন যে গাজায় সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দেওয়া ইসরায়েলের উচিত নয়। জীবনরক্ষাকারী খাদ্য, ওষুধ ও পানি প্রবেশের পক্ষে মাত্র ৩৪ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মত দিয়েছেন। এই জরিপে ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকরাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
এই ফলাফলের প্রতিক্রিয়ায় ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি সংসদ সদস্য আয়মান ওদেহ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি এক্স-এ লিখেছেন, ‘আরব নাগরিকরা না থাকলে পরিস্থিতি কেমন হতো, তা আমি কল্পনাও করতে চাই না। আমি চাই না এই জরিপের ফলাফল আমার সন্তানদের বোঝাতে হোক।’
তবে সাম্প্রতিক সময়ের জরিপে দেখা যায়, গাজায় সহায়তা প্রবেশের বিরোধিতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা জানুয়ারি ২০২৪-এ পরিচালিত এক জরিপে ছিল ৭২ শতাংশ।
আন্তর্জাতিকভাবে যুদ্ধবিরতির দাবি বাড়লেও এবং গাজায় মানবিক সংকট তীব্র হলেও, গাজায় গণহত্যা বন্ধের পদক্ষেপের বিষয়ে ইসরায়েলিদের মতবাদ এখনো বিরুপ।
তবে, গাজায় বন্দি ইসরায়েলিদের পরিবারগুলো সম্প্রতি তাদের প্রিয়জনদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ইসরায়েলের সামরিক হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত ৫৩ হাজার ৬০০ এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। ইসরায়েলি বন্দিদের মধ্যেও কেউ কেউ এই বোমা হামলায় নিহত হয়েছেন।
পুরো ভূখণ্ডটি কার্যত সম্পূর্ণ অবরোধের মধ্যে রয়েছে, যেখানে খাদ্য, পানি, ওষুধ ও জ্বালানির মারাত্মক সংকট চলছে। জাতিসংঘ ইতোমধ্যে সতর্ক করেছে, যদি জরুরি সহায়তা প্রবেশ করতে দেওয়া না হয়ে তাহলে ১৪ হাজার শিশু মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়বে।

‘চূড়ান্ত ধাপে অভিযান, পুরো গাজা নিয়ন্ত্রণ করবে ইসরায়েল’