তত্কালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে গুলি ও বোমা হামলার মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ৪৩ জন আসামি হাইকোর্টে আপিল করেছেন। আপিলকারীদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৮ জন, যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ২২ জন এবং ১০ বছর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১৩ জন আসামি রয়েছেন। গতকাল রবিবার আসামিদের পক্ষে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এসব আপিল দায়ের করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী কায়সার কামাল বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এ রায় দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে দোষী সাব্যস্ত করতে এই মামলা করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর উত্তরাঞ্চলে দলীয় কর্মসূচিতে ট্রেনে করে খুলনা থেকে সৈয়দপুরে যাচ্ছিলেন। ট্রেনটি পাবনার ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনে ঢোকার সময় ট্রেনকে লক্ষ্য করে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা ব্যাপক গুলিবর্ষণ ও বোমা হামলা করেন। এ সময় পুলিশ বিএনপির নেতা-কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য এগিয়ে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করেও বোমা হামলা চালানো হয়। বিএনপি সরকারের আমলে এ ঘটনায় করা মামলায় প্রথমে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মামলাটির পুনঃতদন্ত হয়। ১৯৯৭ সালের ৩ এপ্রিল পুলিশ ঈশ্বরদীর বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীসহ ৫২ জনের নামে আদালতে আবার অভিযোগপত্র জমা দেয়। এই মামলায় গত ৩ জুলাই পাবনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. রুস্তম আলী ৯ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। যাবজ্জীবন দণ্ড দেওয়া হয় ২৫ জনকে। ১৩ জনকে দেওয়া হয় ১০ বছর করে কারাদণ্ড। পরে মামলাটি ডেথ রেফারেন্স আকারে হাইকোর্টে আসে।
