‘কালাকানুন’ প্রত্যাহার না হলে কাজে ফিরবে না কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ

আপডেট : ২৫ মে ২০২৫, ১৪:৩১

‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজে ফিরবেন না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি মো. বাদিউল কবীর।

রোববার (২৫ মে) সচিবালয়ের প্রধান ফটকে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে তিনি এ ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা সেই কালো আইন, নিবর্তনমূলক আইন প্রত্যাহারের দাবিতে এখানে একত্রিত হয়েছি। যে আইন আমাদের মতো সাধারণ কর্মচারীদের অধিকার খর্ব করবে, সে আইন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’

বক্তারা জানান, সংশোধিত খসড়ায় কোনো আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করার বিধান রাখা হয়েছে। এতে শৃঙ্খলা বিঘ্ন, দায়িত্বে গাফিলতি, ছুটি ছাড়া অনুপস্থিতি কিংবা উসকানির অভিযোগে সরাসরি বরখাস্তের সুযোগ রাখা হয়েছে।

বাদিউল কবীর বলেন, ‘এই আইন এখনো চূড়ান্ত না হলেও উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এই খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। আমরা চাই, অবিলম্বে এই কালো আইন বাতিল করা হোক।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই আইনের ফলে কোনো কারণ দর্শানোর সুযোগ না দিয়েই চাকরি থেকে অপসারণের বিধান রাখা হয়েছে। যা সাধারণ কর্মচারীদের জন্য চরম অন্যায়।’

পরিষদের সভাপতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আইন প্রত্যাহার না হলে পরবর্তী সময়ে সচিবালয় অচল করে দেওয়া হবে এবং আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আজকের মধ্যে যদি স্পষ্টভাবে বাতিলের ঘোষণা না আসে, তবে সচিবালয়ের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে। উপদেষ্টাদের গাড়িও ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হবে না।’

তিনি জানান, এ পর্যন্ত দু’জন উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, তবে সন্তোষজনক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

ইত্তেফাক/এনএন