বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহার অভিযোগ নিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় বইছে। বিভিন্ন মহল অভিযোগকে উদ্দেশ্যমূলক দাবি করলেও প্রিয়া সাহা তার বক্তব্যের সপক্ষে সাফাই গেয়েছেন। এক সাংবাদিককে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৩৭ মিলিয়ন মানুষের ‘ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স’ সম্পর্কে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের পরিসংখ্যান বইয়ে এ সংখ্যা পাওয়া যায়। ৩৫ মিনিট ২ সেকেন্ডের সাক্ষাত্কারের ভিডিওটি বাংলাদেশের দলিত সম্প্রদায় নিয়ে প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি সংস্থা ‘শারি বাংলাদেশ’ এর ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা হয়েছে। প্রিয়া সাহা এ সংস্থার পরিচালক।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৩৭ মিলিয়ন মানুষের ‘ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স’ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পরিসংখ্যান বইয়ের (২০০১ সালের) ধর্মীয় সংখ্যালঘু যে চ্যাপ্টার রয়েছে এবং সরকারি সেনসাস রিপোর্ট থেকে এ সংখ্যা পাওয়া যায়। দেশভাগের সঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্র্রদায়ের মানুষ ছিল ২৯ দশমিক ৭ ভাগ, এখন তা কমে ৯ দশমিক ৭ ভাগ। দেশের মানুষ এখন ১৮ কোটির মতো। এ হিসাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা বাড়লে তার দেওয়া সংখ্যাটা মিলে যায়।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হারিয়ে যাওয়া বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন—এমন প্রশ্নে প্রিয়া সাহা বলেন, আমি বোঝাতে চেয়েছি এ পরিমাণের লোক থাকার কথা ছিল। যেভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে সেভাবে সংখ্যালঘু নেই। কমে গেছে সেটাই আমি বোঝাতে চেয়েছি। এক্ষেত্রে নিজ জেলা পিরোজপুরের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ২০০৪ সালে তাদের গ্রামে ৪০টি সংখ্যালঘু পরিবার ছিল, এখন আছে ১৩টি।
দেশের ৯৯ ভাগ মানুষ অসাম্প্রদায়িক মন্তব্য করে তিনি বলেন, কিছু দুষ্টু লোক আছে। তারাই মৌলবাদ উসকে দিচ্ছে। দেশ ছেড়ে কোথাও যাবেন না দাবি করে প্রিয়া সাহা বলেন, তার এ সাক্ষাত্কারের মাধ্যমে সব ধরনের ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে বলে তিনি আশা করেন। সব ধরনের পরিসংখ্যান দেখলে তার বক্তব্য পরিষ্কার হবে। প্রিয়া সাহা দাবি করেন যে, তার পরিবার ভীষণ সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, একদিন আগে তার বাসার সামনের তালা ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যদের ছবি পত্রিকায় ছেপে দেওয়া হয়েছে।
সংখ্যালঘু নির্যাতন প্রসঙ্গে নিজের দেওয়া বক্তব্যকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য বলে দাবি করেন প্রিয়া সাহা। তিনি বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনের পর যখন ৯৪ দিন ধরে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চলছিল, তখন আজকের প্রধানমন্ত্রী ও তত্কালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা সারাবিশ্ব ঘুরে বেড়িয়েছেন সংখ্যালঘুদের রক্ষায়। নানা জায়গায় বক্তব্য দিয়েছেন। আমি তার কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে তার কথা অনুসরণে আমি কথা বলেছি। যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে যে কোনো জায়গায় বলা যায়, আমি তার কাছে শিখেছি।
প্রিয়া সাহা সাক্ষাত্কারে বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের রানা দাস গুপ্তসহ কেউ জানেন না যে আমি যুক্তরাষ্ট্রে এসেছি। আমাকে আইআরআর থেকে সরাসরি ফোন করা হয়েছে, ইমেল পাঠানো হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে আমাকে এবং স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
