চারুকলা নিয়ে দেশের শিল্পীদের সব চেয়ে বড়ো আয়োজন জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী। শিল্পীদের মিলনমেলায় পরিণত হয় এ প্রদর্শনী। শুধু শিল্পী নন, শিল্পামোদীদের আনাগোনায় মুখর থাকে গোটা আয়োজন। গতকাল রবিবার শেষ হলো শিল্পীদের সেই মিলনমেলা।
গত পয়লা জুলাই থেকে শুরু হয়েছিল শিল্পের সফরটি। সারাদেশের তরুণ ও প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পীদের শিল্পের সমাহার ঘটে সে আয়োজনে। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার চারটি প্রদর্শনালয়ে সজ্জিত শিল্পকর্মগুলো শিল্পরসিকরা অবলোকন করেছেন মনের আনন্দে। একুশ দিনের সেই শিল্প-যাত্রার শেষ দিন ছিল গতকাল। এদিন ছিল ২৩তম জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনীর সমাপনী দিন। বিকালে সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় চিত্রশালা মিলনায়তনে। এতে পর্যালোচনা উপস্থাপন করেন শিল্পী মোস্তফা জামান ও শিল্পী শাওন আকন্দ। একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক মোস্তাফিজুল হক। পরে বিজয়ী শিল্পীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
২১ দিনের শিল্প সফরে দর্শকরা দেখেছেন সারাদেশের ৩১০ শিল্পীর ৩২২টি শিল্পকর্ম। বিচিত্র শিল্পরেখায় উজ্জ্বল প্রদর্শনীতে দেখা মিলেছে বিভিন্ন মাধ্যমের ১৫৯টি চিত্রকলা, ৪৫টি ভাস্কর্য, ৫০টি ছাপচিত্র, ১৭?টি কারুশিল্প, ৮টি মৃিশল্প, ৩৭টি স্থাপনাশিল্প ও ভিডিও আর্ট । সেই সঙ্গে যুক্ত ছিল ৭টি পারফরমেন্স আর্ট।
‘হিমুর কল্পিত ডায়েরি’ নাটকের উদ্বোধনী মঞ্চায়ন
রানা প্লাজা ধসের পর স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নওশাদ হাসান হিমু চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল শরীরে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেন। হয়ত বিচার না হওয়ার ক্ষোভ ছিল তার, তাই তাজরীনের আগুনের মতো, নিমতলীর মতো, নুসরাতের আগুনের মতো মৃত্যুকে বেছে নিয়েছেন তিনি। কী ভয়ঙ্কর সেই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু! প্রয়াত হিমু স্মরণে বাতিঘরের নতুন নাটক ‘হিমুর কল্পিত ডায়েরি’ নিয়ে এভাবেই বললেন নাট্যকার সঞ্জয় সরকার মুক্তনীল।
নাট্যকার জানান, ২০১৩ সালের রানা প্লাজা ধসে এক হাজারেরও বেশি পোশাক শ্রমিক নিহত হয়। ১৫ দিন ধরে হিমুর মতো যারা স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করেছে, তাদের মানসিক সুস্থতার কোনো দায়ভার রাষ্ট্র নেয়নি। সেই কথা আবারও স্মরণ করিয়ে দেয় এ নাটক।
শিল্পকলার জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার মিলনায়তনে গতকাল রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় মঞ্চস্থ হয় ‘হিমুর কল্পিত ডায়রি’। এটি উদ্বোধনী মঞ্চায়ন। রচয়িতা মুক্তনীলই নির্দেশক। একক অভিনয় করেছেন সাদ্দাম রহমান। সংগীত পরিকল্পনা করেছেন মুহিয়ান অঞ্জন, আলোক পরিকল্পনা করেছেন তানজিল আহমেদ।
‘লেট মি আউট’ এর ষষ্ঠ প্রদর্শনী
পেশাদার নাট্যচর্চার তাগিদেই গড়ে উঠে তাদের সংহতি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত নাট্যদলের সদস্যরা নতুনভাবে মিলিত হন এক ছাতার তলে। সেই নাট্যকর্মীরা মিলে গড়ে তোলেন ওপেন স্টেজ প্ল্যাটফর্ম। জন্ম নেয় নাট্যদল তাড়ুয়া। আর এ বছরই প্রথম প্রযোজনার মাধ্যমে দলটি হাজির হয় দর্শকের সামনে। ‘লেট মি আউট’ নামের নাটকটি ইতিমধ্যে সমাদৃত হয়েছে নাট্যপ্রেমীদের কাছে। রুনা কাঞ্চনের লেখা নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন বাকার বকুল। গতকাল বেইলি রোডের মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে প্রযোজনাটির ষষ্ঠ প্রদর্শনী হয়।
নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে রূপ দিয়েছেন ইশতিয়াক হোসেন, রুনা কাঞ্চন, সোহেল মণ্ডল, তাহসিন আহমেদ ইফতি, নুরুল আবসার পুলিশ, সাক্ষ্য শহীদ, খায়রুল আলম, জাভেদ জিমি, হাসিবা আহমেদ প্রমুখ। নাটকের মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পনা করেছেন আসলাম অরণ্য। সংগীত পরিকল্পনা করেছেন রবিউল ইসলাম শশি ও ইসমাইল পাটোয়ারী। পোশাক পরিকল্পনা করেছেন শাহনাজ জাহান। কোরিওগ্রাফি করেছেন ফরহাদ শামীম।
