চীনে রাসায়নিক কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত ৫ 

আপডেট : ২৭ মে ২০২৫, ২০:৩৮

চীনের শানডং প্রদেশের ওয়েইফাং শহরে একটি রাসায়নিক কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। ঘটনায় আরও ১৯ জন আহত এবং ছয়জন এখনো নিখোঁজ বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি ও সিনহুয়া।

মঙ্গলবার (২৭ মে) ভোরে শানডং ইউদাও কেমিক্যাল কোম্পানির পরিচালিত একটি প্ল্যান্টে বিস্ফোরণটি ঘটে। প্ল্যান্টটি মূলত কীটনাশক ও ওষুধ তৈরির জন্য ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদান উৎপাদন করে থাকে। চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এবং রয়টার্স দ্বারা যাচাই করা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের সময় আকাশে বিশাল কালো ও কমলা ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে এবং আশপাশের ভবনের জানালাগুলো ভেঙে পড়ছে। একটি ভিডিওতে একজন বাসিন্দা জানান, বিস্ফোরণের প্রভাবে ৭ কিলোমিটার দূরে তার ঘর পর্যন্ত কেঁপে ওঠে।

ঘটনার পরপরই জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলে ২৩০ জনেরও বেশি কর্মী পাঠানো হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ এখনো চলমান। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, বিস্ফোরণস্থলের পাশের আরও একটি অজ্ঞাত স্থাপনা থেকেও ধোঁয়া বের হচ্ছে। উল্লেখ্য, ইউদাও কেমিক্যাল কোম্পানিটি ২০১৯ সালে গাওমি রেনহে কেমিক্যাল পার্কে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রায় ৪৭ হেক্টরজুড়ে বিস্তৃত এই প্ল্যান্টে ৩০০ জনেরও বেশি কর্মী কাজ করেন।

ওয়েইফাং ইকোলজিক্যাল এনভায়রনমেন্ট ব্যুরো জানিয়েছে, তারা বিস্ফোরণের পরিমাণ ও পরিবেশগত প্রভাব যাচাইয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে। আশেপাশের বাসিন্দাদের ইতিমধ্যেই সতর্কতা হিসেবে মুখোশ পরার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চীনে রাসায়নিক কারখানায় বিস্ফোরণ নতুন নয়। এর আগে ২০১৫ সালে তিয়ানজিনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১৭০ জনেরও বেশি প্রাণ হারান এবং ৭০০ জন আহত হন। ওই ঘটনার পর সরকার রাসায়নিক সংরক্ষণ সংক্রান্ত আইন কঠোর করতে বাধ্য হয়। এরপরও বিস্ফোরণ থামেনি। ২০২৩ সালে জিয়াংসি এবং ২০২৪ সালে নিংজিয়ায়ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

 

ইত্তেফাক/টিএস