সড়ক দুর্ঘটনার দায় কার?

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৩১

 

মো.ওসমান গনি শুভ

 

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্য শহরগুলোতে যানবাহন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা।  গাড়ি চালানোর সঠিক আইন-কানুন না জানা কিংবা আইন-কানুনকে তোয়াক্কা না করার প্রবণতাই এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও রয়েছে গাড়ির জন্য প্রযোজ্য বিশেষ আইন। গাড়ি চালাতে গিয়ে এগুলো অমান্য করলে জরিমানা কিংবা মামলার ব্যবস্থা রয়েছে। ট্রাফিক আইন মানা আমাদের সকলের প্রয়োজন।

সড়কে চলার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে পারি। রাস্তা পারাপারে ফুটওভারব্রিজ বা আন্ডারপাস অথবা জেব্রাক্রসিং ব্যবহার করুন। তাছাড়া যত্রতত্র রাস্তা পারাপার দণ্ডনীয় অপরাধ। রাস্তা পারাপারের সময় হেডফোন ব্যবহার করা ও মোবাইলে কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। পায়ে হেঁটে চলার সময় ফুটপাথ ব্যবহার জরুরি। চলন্ত গাড়িতে ওঠা-নামা করবেন না।  রাস্তায় বা ফুটপাথে নির্মাণ সামগ্রী, দোকানের মালামাল, দোকানের সাইনবোর্ড রাখবেন না। ঝুঁকি নিয়ে গাড়িতে ভ্রমণ করবেন না। বাসের ছাদের বামপারে, পাদানিতে ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকুন।  বাসস্টপেজ ব্যতীত অন্য কোথাও থেকে বাসে উঠবেন না বা বাস থেকে নামবেন না। কখনোই চালককে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালাতে উদ্বুদ্ধ করবেন না। রেলওয়ে ক্রসিং বা লেভেল ক্রসিংয়ে লাল বাতি জলন্ত অবস্থায় রাস্তা পার হবেন না।  ট্রেন চলে যাবার পর রাস্তা পার হবেন। ভ্রমণকালে অপরিচিত লোকের দেওয়া কোনো কিছু খাবেন না। শারীরিক প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধ, শিশু ও নারীদের বসার সুযোগ দিন। বাসের নির্ধারিত স্থান ছাড়া রাস্তায় দাঁড়িয়ে যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করা থেকে বিরত থাকুন।

যাত্রার পরে যাত্রীর নিরাপত্তার ভার অনেকটা থাকে চালকদের ওপর। তাই চালকদেরও মেনে চলতে হবে এই ট্রাফিক আইন-কানুনসমূহ; যেমন অযথা হর্ন বাজাবেন না। গাড়ি চালানোর সময় অবশ্যই সিটবেল্ট ব্যবহার করুন। গাড়ি চালানোর সময় গতিসীমা মেনে চলুন। ঘন ঘন লেন পরিবর্তন করা থেকে বিরত থাকুন। অযথা ওভারটেকিং করবেন না এবং সতর্কতার সঙ্গে ওভারটেকিং করুন। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গাড়ির যন্ত্রাংশ চেক করে নিন। উল্টো পথে যে কোনো যান চালানো থেকে বিরত থাকুন।  গাড়ি চলাচলের নির্ধারিত পথে গাড়ি পার্ক করবেন না।  ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করবেন না।  ক্লান্ত বা অসুস্থ বা মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালাবেন না।

ট্রাফিক আইন মেনে না চললে আইন অমান্যকারীর প্রতি ‘মোটরযান আইন-১৯৮৩’ প্রয়োগ করা হয়।  তাই আসুন, দুর্ঘটনা এড়াতে এবং সমাজের মানুষের সড়ক নিরাপত্তার জন্য ট্রাফিক আইন মেনে চলি। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়