রাসেল আহমেদ
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর দিনকয়েক বাকি। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা এবং মনোনয়ন শেষ করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। আগামী ৫ বছরের জন্য সরকার গঠনের তাগিদে জনগণের সামনে নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা করবে রাজনৈতিক দলগুলো। দেশে তরুণ ভোটারের সংখ্যা নেহায়েত্ কম নয়। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে তরুণ ভোটাররা। তাঁদের টানতে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী ইশতেহারে তাদের সুবিধার কথা উল্লেখ করে থাকে।
তরুণদের জন্য কেমন হবে নির্বাচনী ইশতেহার?
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এবারের হালনাগাদ শেষে নতুন ভোটারের সংখ্যা ৪৩ লাখের বেশি। সব মিলিয়ে এবার ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ৪১ লাখের বেশি। এর মধ্যে প্রায় আড়াই কোটি ভোটারই তরুণ। প্রতিটি আসনে গড়ে ২৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার পর্যন্ত তরুণ ভোটার রয়েছেন। আগামী নির্বাচনে এঁরাই জয়-পরাজয়ে মুখ্য ভূমিকা রাখবেন। তরুণদের ভোট যাঁরা বেশি পাবেন, তাঁদের বিজয়ী হওয়া সহজ হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক দলগুলো। তাই তরুণদের চাহিদা মাফিক নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি করা খানিকটা চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টি—তরুণ ভোটারদের কাছে প্রধান বিষয় হিসাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। বর্তমানে আমাদের দেশে শিক্ষিত বেকার প্রায় এক কোটি। তরুণদের প্রধান সমস্যা চাকরির সুযোগ। এজন্য তাঁদের পর্যাপ্ত চাকরির সুযোগ তৈরির কথা ইশতেহারে থাকতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগ বাড়িয়ে, পর্যটনশিল্পের প্রসার ঘটিয়ে ও আলাদা অর্থনৈতিক জোন করে তাদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে। এছাড়া শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, গবেষণাকেন্দ্রিক পড়াশোনার সুযোগ তৈরি এবং কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে।
তরুণদের অন্যতম আকর্ষণ ইন্টারনেট। তাই ইন্টারনেটের খরচ কমাতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির সহজলভ্যতা ও উত্কর্ষ, সর্বশেষ প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয়, প্রশিক্ষণ দেওয়া, তরুণদের উদ্যমী করে তোলাসহ তাদের স্বপ্ন পূরণের জন্য কাজ করতে হবে। তরুণদের প্রতিযোগিতার উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এই বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রেখে তরুণদের চাহিদা অনুযায়ী নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হোক। যাতে তরুণরা একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে দেশের উন্নয়নে শক্ত হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
