মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সফরের সময় সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতারা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলিতে হামলার বিরোধিতা করেছেন। সেই সঙ্গে একটি নতুন পারমাণবিক চুক্তির জন্য ট্রাম্প যেন চাপ অব্যাহত রাখে, সে বিষয়ে উৎসাহিত করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) আলোচনার সঙ্গে সম্পৃক্ত তিনটি সূত্র মার্কিন অ্যাক্সিওস পোর্টালকে এ তথ্য জানিয়েছে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং অন্যান্য উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তির বিরোধিতা করেছিল। এখন তারা কূটনীতিতে উৎসাহী। সেই সময় সৌদি আরব এবং আমিরাতের শাসকরা ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিরুদ্ধে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর প্রকাশ্য লড়াই এবং ইরানে আক্রমণের হুমকিকে নীরবে সমর্থন করেছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এখন উপসাগরীয় নেতারা চিন্তিত, নেতানিয়াহু আক্রমণের সূত্রপাত করবেন। অথবা ট্রাম্প আলোচনা ছেড়ে দিয়ে নিজেই সামরিক বিকল্প বেছে নেবেন।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ এবং কাতারের আমির তামিম আল-থানি সকলেই ট্রাম্পকে বলেছেন, তারা উদ্বিগ্ন যে যদি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আক্রমণ করা হয়, তাহলে তাদের দেশগুলো ইরানের প্রতিশোধের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। এই তিনটি দেশেই মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রত্যক্ষ জ্ঞানসম্পন্ন একটি সূত্র অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছে, আল-থানি ট্রাম্পকে বলেছেন, এই পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলো অন্য সবার চেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, তিন উপসাগরীয় দেশের নেতাই ট্রাম্পের পরমাণু আলোচনার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন।
অ্যাক্সিওস বলছে, সৌদি, কাতারি এবং আমিরাতের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
এদিকে, গতকাল বুধবার ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন, তিনি গত বৃহস্পতিবার ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার নির্দেশ দেওয়ার বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছিলেন।
ট্রাম্প বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন ইরানের পারমাণবিক সংকট 'একটি অত্যন্ত শক্তিশালী নথি' দিয়ে সমাধান করা যেতে পারে, যা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সই হতে পারে।
