নিম্নচাপের কারণে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে বৃহস্পতিবার (২৯ মে) গভীর রাতে উপকূল অতিক্রম করেছে। এতে বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়েছে।
অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ২শতাধিক মাছের ঘের প্লাবিত হয়েছে। শুক্রবার জোয়ারের তোরে পাথরঘাটা উপজেলার নাছনাপাড়া ইউনিয়নের হলতা নদীর বেড়িবাঁধ মানিকখালী অংশ ভেঙ্গে প্রায় ৬ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গ্রামগুলো হল মানিকখালী, নাচনাপাড়া, জ্ঞানপাড়া, উত্তর কাঠালতলী, কেরামতপুর ও পুটিমারা। এতে প্রায় ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
উপজেলার নাচনাপাড়া ইউনিয়নের মানিকখালী গ্রামের বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম জানান, বুধবার থেকেই পাথরঘাটায় বৃষ্টিসহ জোয়ারের তোরে এলাকায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
মানিক খালী গ্রামের আ. জলিল ও আতিকুর রহমান বলেন, বেড়িবাঁধ ভেঙে আমাদের ঘর বাড়ি প্লাবিত হয়েছে। রান্না ঘর তলিয়ে যাওয়ায় গত বুধবার রাত থেকে রান্না করতে না পারায় শুকনো খাবার খেয়ে আছি।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, চলতি বছরের ৮ আগস্ট মানিকখালি গ্রামের কিছু সংখ্যক মানুষ বেড়িবাঁধের একটি অংশ পানির সংকট নিরসনের জন্য কেটে ফেলে। পরবর্তীতে স্থানীয় জনগণের দাবির কারণে এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ওই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করেন। উপজেলা কাকচিড়া ইউনিয়নের রাজু মিয়া নামের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মেরামতের কাজ পেয়ে মাটির কাজ শুরু করেন। কিন্তু কিছুদিন পর অজ্ঞাত কারণে বেড়িবাঁধ মেরামতের কাজ বন্ধ রাখে। অসমাপ্ত কাজের জায়গায় পানির চাপে আবার ভেঙ্গে যায়।
নাচনাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মহিউদ্দিন পান্না বলেন, বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যেই আমাদের প্রায় ৬ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজানুর রহমান বলেন, বেড়িবাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর শুনেছি। তাৎক্ষণিক পানি উন্নয়ন বোর্ড কে জানানো হয়েছে। বৃষ্টি থামলেই তারা সরেজমিনে এসে বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করবে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি শুকনো খাবারের প্রয়োজন হলে উপজেলা প্রশাসন থেকে সরবরাহ করা হবে
