বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোতে অটোমেশন জটিলতায় চলতি শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি কার্যক্রম শেষ হলেও এখনো প্রায় ২৫ শতাংশ সিট খালি রয়েছে। গত তিন বছর ধরেই এই খাতের অর্ধেক আসন ফাঁকা থাকছে। অটোমেশন জটিলতা নিরসনে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। আগামীকাল রবিবার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার দৈনিক ইত্তেফাকে ‘বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তিতে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমছে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
দেশের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ভর্তি প্রক্রিয়া চালু হওয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা পছন্দমতো মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে শিক্ষার্থীরা এই পেশায় আসতে নিরুত্সাহিত হচ্ছেন। এছাড়া বিদেশি ছাত্রছাত্রীরা যাতে না আসে সেই ষড়যন্ত্র এটি। এতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা হতাশ ও সংক্ষুব্ধ। বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোর অনেক আসনই ফাঁকা থেকে যাচ্ছে অটোমেশন ভর্তি প্রক্রিয়ায়।
অটোমেশনের নামে বেসরকারি মেডিক্যাল খাতকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে বলে দাবি করেছেন সচেতন অভিভাবক ও বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন। ফলে অটোমেশন পদ্ধতিতে ভর্তি প্রক্রিয়া বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস ভর্তিতে অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি চালু হয়। এই পদ্ধতিতে সরকারি ও বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে মেধাতালিকার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দের কলেজগুলো বেছে নিতে পারেন না। আর্থিক সামর্থ্য, নিরাপত্তা, যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার সুবিধা বিবেচনা করে ছাত্রছাত্রীরা ভর্তির জন্য পছন্দের প্রতিষ্ঠান বেছে নেন। কিন্তু অটোমেশন চালু করার পর থেকে ছাত্রছাত্রীরা এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিএমডিসি থাকার পরও অটোমেশন চালু দেশের বেসরকারি স্বাস্থ্য খাত ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের অংশ। অটোমেশন চালু করার আগে কোন প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজে ভর্তিতে কোন সিট খালি ছিল না। এখন বেসরকারি নামিদামি মেডিক্যালে সিট খালি।
অটোমেশন চালু করার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভুল বুঝিয়েছেন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের একজন সুবিধাভোগী কর্মকর্তা। বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য এটি সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র। ঐ সুবিধাভোগী ছয় বছর ধরে মন্ত্রণালয়ে আছেন। অনেকে তার বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করেছেন। সে এখনো বহাল তবিয়তে আছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ২০ কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সেখানে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলোর বড় ভূমিকা রয়েছে। অনেক নামিদামি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ যেমন প্রতিষ্ঠা হয়েছে, ঐ সকল হাসপাতালগুলোতে সকল ধরনের অপারেশন ও চিকিত্সাসেবা মানুষ পাচ্ছে।
এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (শিক্ষা) সুমন নাজমুল বলেন, রবিবার এই বিষয়ে আলোচনা হবে। প্রসঙ্গত, দেশে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ৬৭টি এবং সরকারি মেডিক্যাল কলেজের সংখ্যা ৩৪টি।

