আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) একটি গোপন প্রতিবেদনে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে নতুন দাবি উত্থাপন করেছে। শনিবার (৩১ মে) অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের বিশ্লেষণ করা প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ আরও অস্ত্র-গ্রেডের স্তরের কাছাকাছি নিয়ে গেছে। সংস্থাটি তেহরানের প্রতি জরুরিভাবে 'পথ পরিবর্তন' এবং সংস্থার 'তদন্ত মেনে চলার' আহ্বান জানিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তেহরানের বেশ কয়েক দফা পারমাণবিক আলোচনা হয়েছে। সামনে আরও আলোচনার জন্য যখন দুই দেশ প্রস্তুতি নিচ্ছে, এমন এক সংবেদনশীল সময়ে এই প্রতিবেদনটি এলো।
আইএইএ গোপন প্রতিবেদনটিতে বলছে, ১৭ মে পর্যন্ত ইরান ৪০৮.৬ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে। এগুলোর বিশুদ্ধতা ৬০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
এপির প্রতিবেদন অনুসারে, গত ফেব্রুয়ারিতে সংস্থাটির সবশেষ প্রতিবেদনের পর থেকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ ১৩৩.৮ কিলোগ্রাম বা প্রায় ৫০% বৃদ্ধি পেয়েছে। ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদনে এই মজুদের স্তর ২৭৪.৮ কিলোগ্রাম দেখানো হয়েছিল।
৬০% সমৃদ্ধ পদার্থ অস্ত্র-গ্রেড স্তরের, অর্থাৎ ৯০% থেকে একটি সংক্ষিপ্ত ও প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ দূরে আছে। নতুন আইএইএ রিপোর্টের বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে এপি জানিয়েছে।
মাসের শুরুতে তেহরানে এক বক্তৃতায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ইরানের অধিকারের ওপর জোর দিয়েছিলেন। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন, দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র চায় না বা বিশ্বাস করে না।
কিছু পশ্চিমা শক্তির ক্রমাগত অভিযোগের কথা উল্লেখ করে পেজেশকিয়ান বলেন, অন্যরা দাবি করে চলেছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। এগুলো ভিত্তিহীন, যুদ্ধবাজ অভিযোগ ছাড়া আর কিছুই নয়। আমাদের দেশের উন্নয়নের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার আমাদের আছে - অস্ত্রের জন্য নয়, বরং উন্নত জীবনের জন্য।
এদিকে, আইএইএ'র নতুন প্রতিবেদন গণমাধ্যমে আসার পর ইরানের রাজনৈতিক সূত্র আল মায়াদিনকে জানিয়েছে, তেহরানের কূটনৈতিক উন্মুক্ততার সাম্প্রতিক লক্ষণ সত্ত্বেও ইউরোপীয় ত্রয়ী - ফ্রান্স, জার্মানি এবং যুক্তরাজ্য, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির উপর একটি নেতিবাচক প্রতিবেদন জারি করার জন্য আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার উপর চাপ বৃদ্ধি করছে।
সূত্রগুলো প্রকাশ করেছে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সর্বশেষ পরোক্ষ আলোচনার আগেই এই চাপ অভিযান শুরু হয়েছিল এবং এটি অবিরামভাবে অব্যাহত রয়েছে। এটি গঠনমূলক সম্পৃক্ততার সম্ভাবনাকে ক্ষুণ্ণ করছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরানের সদিচ্ছার বার্তা সত্ত্বেও তিন ইউরোপীয় দেশ আইএইএ'র উপর চাপ প্রয়োগের পথ অনুসরণ করে চলেছে।
