পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় উপমহাদেশের প্রখ্যাত কালজয়ী সাংবাদিক, মোসাফির কলাম লেখক, মহান মুক্তিযুদ্ধের অগ্রণী কলম সৈনিক এবং দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ৫৬তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
রবিবার (১ জুন) সকালে ভান্ডারিয়া মজিদা বেগম মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে হামদ-নাত পরিবেশন, আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. এনায়েত করিম খোকনের সভাপতিত্বে এবং সহকারী অধ্যাপক আব্দুল হালিম হাওলাদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সহকারী অধ্যাপক মো. খলিলুর রহমান, মো. আতিকুর রহমান, মো. ওসমান গনি, মো. মুরাদ হোসেন জাহিদ, প্রভাষক মো. ওমর ফারুক, জোতী রায়, মো. বাইজিদ হোসেন এবং শিক্ষার্থী মীম আক্তার প্রমুখ।
দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা মো. নুরুল হক।
একই দিনে দুপুরে মজিদা বেগম বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও দিবসটি পালিত হয়। বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মনির হাওলাদার। এ সময় বক্তব্য রাখেন শিক্ষক শাহানাজ পারভিন, মোনালিমা এলিসান, মো. এমরান হোসেন জোমাদ্দার ও নিমাই চন্দ্র হালদার। দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা মো. ইউনুস আলী।
এদিকে মানিক মিয়ার গ্রামের বাড়ি পূর্ব ভান্ডারিয়ায় মরহুমের ভ্রাতুষ্পুত্রদের আয়োজনে মিয়া বাড়ি জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে বাদ জোহর কোরআনখানি, মিলাদ মাহফিল এবং দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন ক্বারী মোস্তফা হোসাইন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় মুসল্লিদের পাশাপাশি বাইতুল কুরআন হাফেজিয়া মাদরাসা ও জামিয়া তাজবিদুল কুরআন নূরানী মাদরাসার শিক্ষক ও ছাত্ররাও অংশ নেন। শেষে উপস্থিতদের মাঝে তাবারক বিতরণ করা হয়।
এ ছাড়া, বেসরকারি অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন ‘আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গ্যালারি’র উদ্যোগে উত্তর পূর্ব ভান্ডারিয়ার মোল্লা ছোমের উদ্দিন জামে মসজিদে বাদ জোহর মিলাদ মাহফিল ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এতে অংশ নেন জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতা মো. হারুন অর রশিদ মোল্লা, মো. চান্দে আলী, প্রবীণ সমাজসেবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মুসল্লিগণ। দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা মোস্তফা হোসাইন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একজন নির্লোভ ও নির্মোহ সাংবাদিকও যে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ভিত্তি গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারেন, তা তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া প্রমাণ করে গেছেন। আজ ইতিহাস বিকৃতির সময়ে সাংবাদিকদের আরও বেশি সচেতন হয়ে কলম ধরার আহ্বান জানান তারা।
ভান্ডারিয়ার এই কৃতি সন্তান বিলাসী জীবন ও সরকারি চাকরিকে ত্যাগ করে একটি স্বাধীন জাতি গঠনের স্বপ্নে সাংবাদিকতা শুরু করেন। ’৪৭, ’৪৮, ’৫২, ’৬৬ ও ৬-দফা আন্দোলনসহ সকল সংগ্রামে তিনি ছিলেন সাহসী জনমত গড়ার অন্যতম পুরোধা কলম সৈনিক।
