বারবার ব্যর্থ অভিযান সত্ত্বেও গাজায় 'ইসরায়েলের অবরোধ ভাঙার' এবং এই অঞ্চলে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার আরেকটি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি অঞ্চলটির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন জলবায়ু প্রচারক গ্রেটা থানবার্গ। ইতালির বন্দর থেকে 'ম্যাডলিন' নামক নৌকায় তার সঙ্গে যাত্রা করেছেন আরও কয়েকজন মানবাধিকার-কর্মী।
এক বিবৃতিতে থুনবার্গ বলেছেন, বিশ্ব দর্শক হয়ে থাকতে পারে না। আমরা যে নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা দেখতে পাচ্ছি, তা মারাত্মক। ২০ লাখ মানুষকে পরিকল্পিতভাবে অনাহারে রাখা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার লড়াইয়ে শামিল হওয়া প্রতিটি মানুষের নৈতিক দায়িত্ব।
গত ১৫ বছর ধরে 'ফ্রিডম ফ্লোটিলা' নামক একটি আন্দোলনের অংশ হিসেবে বারবার সাহায্য ও চিকিৎসা সরবরাহে ভরা নৌকা গাজায় পাঠানোর চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু এগুলো ভেস্তে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
২০১১ সালে পূর্ববর্তী একটি অভিযানে ছিলেন - এমন প্রাক্তন ক্রু সদস্য মাইকেল কোলম্যান বলেছেন, জাহাজে থাকা ব্যক্তিরা ঝুঁকি ও গাজার উপকূলে পৌঁছানোর সম্ভাবনা যে কম, সে সম্পর্কে ভালভাবে অবগত।
২০১১ সালে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি অবরোধ ভাঙার চেষ্টারত কর্মীদের বহনকারী দুটি নৌকার একটিতে কোলম্যান ছিলেন। ইসরায়েলি নৌবাহিনী তখন জানিয়েছে, তারা জাহাজগুলোকে ফিরে যেতে বলেছে, কিংবা ইসরায়েলের আশদোদ বন্দরে অথবা মিশরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
সে সময় সাহায্যকর্মীরা এটি করতে অস্বীকৃতি জানালে ইসরায়েলি নৌবাহিনী দুটি নৌকায় উঠে বিক্ষোভকারীদের আটক করে। কোলম্যান বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ ছিল এবং অসংখ্য ইসরায়েলি নৌযান আমাদের ঘিরে রেখেছিল। তারা জলকামান এবং টেজার ব্যবহার করে আক্রমণ এবং শারীরিক বল প্রয়োগ করেছিল। আমাদের পোশাক খুলে তল্লাশি করা হয়েছিল, বাসে তুলে একটি অভিবাসন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং তারপর খুব ভোরে একটি কারাগারে পৌঁছানো হয়েছিল।
সাম্প্রতিকতম এমন রেকটি প্রচেষ্টা চলতি মাসের শুরুতে হয়েছিল। জাহাজটি মাল্টা থেকে ১৩ নটিক্যাল মাইল পূর্বে থাকা অবস্থাতেই সেটিতে দুইবার ড্রোন হামলা হয়। এরপর মানবাধিকার-কর্মীরা হামলার পেছনে ইসরায়েলকে দায়ী করা হয়েছে।

