কুমিল্লার চান্দিনায় ইউএনওর নির্দেশ অমান্য করে চারটি স্কুলের মাঠে গরুর হাট বসিয়েছেন ইজারাদার। জেলার কাদুটি উচ্চ বিদ্যালয়, শ্রীমন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়, ধেরেয়া সরকারি প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়, দোল্লাই নবাবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর স্কুল মাঠে গরুর হাট বসানোর খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে ইউএনওর অনুমতি নিয়ে হাট বসানো হয়েছে বলে জানান ইজারাদার। অন্যদিকে, কোন মাঠে বাজার বসানোর জন্য অনুমতি দেননি বলে জানিয়েছেন চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলা বছরের শুরুতে চান্দিনা পৌরসভাসহ উপজেলায় ৪টি স্থায়ী গরুর হাটের ইজারা অনুমতি দেয় স্থানীয় প্রশাসন। উপজেলার দোল্লাই নবাবপুর পশু’র হাটটি প্রায় ৫৪ লক্ষ টাকায় ডাকে নেয় স্থানীয় এক ইজারাদার। কিন্তু ঈদের পূর্ব মুহূর্তে সেই গরুর হাট নিয়ে আসা হয় দোল্লাই নবাবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে। এছাড়া উপজেলা প্রশাসন প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ২১টি অস্থায়ী গরুর হাটের ইজারা দেয়। এর মধ্যে শ্রীমন্তপুর, কাদুটি ও ধেরেরা এলাকায় ৩টি পৃথক স্কুলের মাঠে গরুর হাট বসে। প্রশাসন এসব বাজার নির্ধারিত স্থানে ইজারা দিলেও ইজারাদার তাদের সুবিধার্থে স্কুলের মাঠে খুঁটি বসিয়ে হাট চালানোর অভিযোগ পাওয়া যায়।
দোল্লাই নবাবপুর বাজারের ইজারাদার মো. শাহজাহান সাজু বলেন- গরু বাজারের নির্ধারিত স্থানে জায়গা কম থাকায় যুগের পর যুগ কোরবানির মৌসুমে স্কুল মাঠেই বাজার বসে। এবারও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুমতি নিয়ে হাট চালাচ্ছি।
শ্রীমন্তপুর গরু বাজারের আরেক ইজারাদার জাকির হোসেন জানান, স্কুল মাঠের বেশিরভাগ অংশই খাসজমি। আমরা ইজারা নিয়ে সেই খাস জায়গায় গরু বাজার বসিয়েছি।
তবে কোনও মাঠে বাজার বসানোর জন্য অনুমতি দেননি বলে জানান চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আশরাফুল হক।
তিনি জানান, স্কুল মাঠে হাট বসানোর বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। যারাই স্কুল মাঠে বাজার বসিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সরেজমিন দেখা যায়, কুমিল্লার চান্দিনায় স্কুল মাঠে পশুর হাট বসানোর কারণে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার আগের দিনও পাঠদান করা সম্ভব হয়নি। নামমাত্র বিদ্যালয় খোলা থাকলেও শুধুমাত্র বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ ছাড়া বাকি সব শ্রেণীকক্ষ বন্ধ। বিদ্যালয়ের মাঠ ছাপিয়ে ভবনের বারান্দায়ও গরু-ছাগল বেঁধে রাখতে দেখা যায়। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা গেছে।
সোমবার (২ মে) উপজেলার দোল্লাই নবাবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। ওই বিদ্যালয় শিক্ষক ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাজারের নির্ধারিত স্থানে বাৎসরিক স্থায়ী গরু বাজার ইজারা নেয়। কিন্তু কোরবানি ঈদের মৌসুমে সেই বাজার চলে আসে স্কুল মাঠে। আবার ঈদের আগ মুহূর্তে উপজেলা প্রশাসন থেকে অস্থায়ী গরু বাজারের ইজারা নিয়ে সেই বাজারগুলো বসানো হচ্ছে স্কুল মাঠে। বছরের পর বছর এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলেও প্রশাসন স্থায়ী কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।
দোল্লাই নবাবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন জানান, বাজারের নির্ধারিত স্থান থাকলেও কোরবানির মৌসুমে স্কুল মাঠে প্রতিবছর গরুর বাজার বসানো হয়। সোমবার (২ জুন) সকালে বৃষ্টি হওয়ায় গরু-ছাগল নিয়ে স্কুলের বারান্দায় চলে আসে বিক্রেতারা। এখনও বারান্দায় ক্যাশ কাউন্টার আছে। বিগত বছরগুলোতে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনেকবার বলেছি, কিন্তু কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় এবছর কাউকে কিছু বলিনি।
দীর্ঘ বছরের পর বছর ধরে এভাবেই চলে আসছে উল্লেখ করে কাদুটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সফিকুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার থেকে আমাদের উচ্চ বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেছে। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান সোমবার পর্যন্ত চলবে। এরই মধ্যে গরু বাজারও বসে গেছে স্কুল মাঠে।
