সেই ঘটনার পর ১৫ মাস কেটে গেছে। ব্রিস্টলের ক্রাউন আদালতে নিরপরাধ বলে রায় পেয়েছেন বেন স্টোকস। কিন্তু সেই ঘটনার শেষ হয়নি। আজ ও আগামী শুক্রবার বেন স্টোকস ও অ্যালেক্স হেলসকে মুখোমুখি হতে হবে ক্রিকেট ডিসিপ্লিনারি কমিশনের (সিডিসি)। এখানকার শুনানিতে ঠিক হবে তারা দুজন ব্রিস্টলের নৈশক্লাবে মারামারির ওই ঘটনায় কোনো ক্রিকেটীয় শাস্তি পাবেন কি না।
গত সেপ্টেম্বরে ব্রিস্টলের এক নৈশক্লাবে মারামারির ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন হেলস ও স্টোকস। এ ঘটনায় দু জনই বেশকিছু খেলা মিস করেন আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে। শুরুতে তারা ক্রিকেটে নিষিদ্ধও ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জুলাই মাসে এসে আদালত ঘোষণা করে যে, এ ঘটনায় স্টোকস নিরপরাধ। আর এর আগেই পুলিশ হেলসের বিপক্ষে কোনো অভিযোগ আনা থেকে বিরত থাকে।
স্টোকস আগে থেকেই বলে আসছেন যে, তিনি আত্মরক্ষার্থেই যা কিছু করার করেছেন। সেই সঙ্গে হেলসকে একটা ভিডিওতে পা চালাতে দেখা গেলেও তাকে কেউ দোষী মনে করেননি। কিন্তু সিডিসি পুরো ব্যাপারটা দেখবে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) আইন অনুযায়ী। তারা অপেক্ষা করছিল আদালতের রায় আসা পর্যন্ত। সেই রায় আসার পর এখন তারা রুদ্ধদ্বার এক শুনানিতে অংশ নেবে। যেখানে ইসিবির ৩.৩ ধারা অনুযায়ী এই দু জনের বিচার হবে। এই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ক্রিকেটার ইংল্যান্ডের ক্রিকেটের ভাবমূর্তির ক্ষতি করলে তাকে শাস্তির আওতায় আনা যেতে পারে। শুক্রবারই সিডিসি রায় ঘোষণা করে দিতে পারে।
এ ঘটনায় বিচার করাটা সিডিসির জন্য বেশ জটিল একটা বিষয়। ইতোমধ্যে আদালতে দুই ক্রিকেটার নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। ফলে তাদের নতুন করে শাস্তি দেওয়াটা কঠিন। আবার বিবেচনায় রাখতে হবে যে, এই ক্রিকেটাররা এমনিতেই বেশকিছু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এরই মধ্যে মিস করেছেন। ফলে তাদের সেই ম্যাচগুলোকেও বিবেচনায় নিতে হবে।
অন্যদিকে আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হলেও ভিডিও বা অন্যান্য সাক্ষে দুই ক্রিকেটারকেই রাস্তায় মারামারি করতে দেখা গেছে। ইসিবি নতুন করে ক্রিকেটকে ইংল্যান্ডে জনপ্রিয় করার নানা চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় পরিবারগুলোর কাছে এই ভিডিও পৌঁছানোর পরও ক্রিকেটাররা শাস্তি না পেলে ভুল বার্তা যেতে পারে। এই দুই ক্রিকেটারের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান সিডিসির তিন সদস্য। এখানে প্রধান হিসেবে কাজ করবেন ডার্বিশায়ারের সাবেক ব্যাটসম্যান টি ও’গরমান। এ ছাড়া আছেন সাবেক ট্রাইব্যুনাল বিচারক ক্রিস টিকল ও সাবেক ইংল্যান্ডের বাঁহাতি পেসার মাইক স্মিথ।
