নিজস্বতায় নান্দনিক

আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৯, ১৯:৪৩

বিশ্বের ফ্যাশন বদলে যাচ্ছে খুব দ্রুত। সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে দৌড়াচ্ছে ফ্যাশন। আজ যে ট্রেন্ড নিয়ে এত হৈচৈ, আবার পরের কিছুদিনের মধ্যেই বদলে যাচ্ছে সবকিছু, আসছে নতুন সব রং, নকশা আর অলঙ্করণসহ নতুন নতুন সব পণ্য। আলমারি যেমন ভরে যাচ্ছে তাড়াহুড়ার কেনাকাটায়, তেমনি আবার খালি করতে হচ্ছে অল্পগু সময়ের মাঝেই, নতুন কেনাকাটার সবকিছু রাখতে গিয়ে। এই যে অদলবদল চলছে ফ্যাশন দুনিয়াতে এর সঙ্গে সমান তালে এগিয়ে চলতে তাই ফ্যাশন সচেতন মানুষ জানতে চাচ্ছে সবকিছুর বিস্তারিত। বর্তমান যুগের ফ্যাশন ধারায় ট্রেন্ড সেট হচ্ছে না সেভাবে। মিক্স অ্যান্ড ম্যাচের প্রাধান্য দেখা যাচ্ছে ভীষণভাবে। এ বিষয়ে তরুণ ফ্যাশন ডিজাইনার সাফিয়া সাথী বলেন, ‘আধুনিক তরুণীরা এখন বিশ্ব ফ্যাশন সম্পর্কে সচেতন। ওয়েবসাইটের ফ্যাশন কন্টেট আর হাতের মুঠোর লাইফ স্টাইল অ্যাপ খুব সহজেই জানিয়ে দিচ্ছে বিশ্ব ফ্যাশন সম্পর্কে। নামকরা ফ্যাশন ব্র্যান্ডের পণ্য এখন আর অধরা নয়। রানওয়ের খবর মুহূর্তেই পৌঁছে যাচ্ছে সবার কাছে। তার মধ্যেও তৈরি হচ্ছে স্টাইল। নিজস্বতার সঙ্গে নান্দনিকতার মিশেলে আধুনিকারা নিজেকে তুলে ধরছেন।’

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া বা চাকরিজীবী নারীদের মাঝে নিয়মিত পরার জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে হাফ সিল্ক, তসর সুতি আর টাঙ্গাইল সিল্ক। দাম একটু কম, সঙ্গে নিয়মিত পরার জন্য বেশ উপযোগী। বিশেষ করে এখনকার আবহাওয়ার কথা মাথায় রাখলে। কিন্তু শাড়ি পরার ঢঙে ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে ডিজাইনার সাফিয়া সাথী বলেন, ‘চিরায়ত বাঙালি ললনার শাড়ির আঁচল বিভিন্নভাবে শোভা বাড়িয়ে তুলছে। ব্লাউজের কাটের অভিন্ন মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে। ব্যতিক্রমী কাট বাড়িয়ে তুলছে ফ্যাশন জেল্লা। হাতায় নকশার বৈচিত্র্য তো রয়েছেই এর বাইরে ব্লাউজের দৈর্ঘ্য নিয়ে হচ্ছে নিরীক্ষা।’

বর্তমান তরুণ সমাজের ফ্যাশন ডায়েরিতে কামিজ আর টপস রোজকার পোশাক। পশ্চিমা ফ্যাশনের মেলবন্ধনে তৈরি হচ্ছে এসব পোশাক। দৈনন্দিন পোশাকের বিষয়ে সাফিয়া সাথী বলেন, ‘তরুণেরা একই সঙ্গে চায় বাহারি নকশার পোশাক আর আরাম। প্যাটার্নে আধুনিকতাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। টপসের জন্য আগে বডি ফিটিং কাট ব্যবহার করা হলেও এখন এসেছে ভিন্নতা। কিছু টপস আছে, যেগুলোর সামনে দিয়ে খাটো কিন্তু পেছনের দিকের কাপড় লম্বা। কোনো কোনো টপসে রাখা হয়েছে সামনের অংশে পুরোটাতেই বোতাম, যা অনেকটা লম্বা শার্টের মতো। আবার টপসের হাতাতেও রয়েছে ভিন্নতা। ফেব্রিকে দেখা যাচ্ছে ভিন্নতা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সুতি, শিফন, জর্জেট, শাটিন, লিনেন, টু টোন কটন ব্যবহার করা হয়। প্যাটার্ন আর অলঙ্করণে পরিবর্তন এসেছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। দৈর্ঘ্য এখন হাঁটুর নিচেই চলছে বেশি। অলঙ্করণে এমব্রয়ডারি, অ্যাপলিক, কারচুপি বর্তমানে গুরুত্ব পাচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘তরুণীরা বেশিরভাগ সময় লেগিংস, পালাজ্জো আর প্যান্টের সঙ্গে টপস ও কুর্তি পরতে পছন্দ করেন। আরামের কথা চিন্তা করে টপস ও কুর্তির সঙ্গে এখন প্রায়ই দেখা যায় পালাজ্জো পরতে। তবে দৈনন্দিন কাজের জন্য যেই কুর্তি বা টপস পরে যাচ্ছি জমকালো অনুষ্ঠানে, কিন্তু আবার সেই একই রকম কুর্তি কিংবা টপস পরে গেলে হয়তো মানাবে না। এক্ষেত্রে একটু ভারী কাজ করা কুর্তি কিংবা টপস মানানসই হতে পারে। দৈনন্দিন কাজে যাওয়ার জন্য টপস কিংবা কুর্তির সঙ্গে অলংকার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন কাঠের, মাটির গয়না কিংবা ধাতব ছোট প্যান্ডেন্ট আর কানে ম্যাচিং করে ছোট দুল বা পাথরের টপস। আর উদ্দেশ্য যদি হয় কোনো অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য, সেক্ষেত্রে ধাতব গলার অলংকার অথবা কানের ঝুমকা কিংবা লম্বা দুলগুলো বেশি মানানসই।’

নব্বই দশকের ফুলের প্রিন্টের জোয়ার আবারও ঢেউ তুলেছে। ফ্লাওয়ার প্রিন্টের জমাটি রং তারুণ্যকে তুলে ধরে। তাই এ যুগের নারীরা ফুলেল প্রিন্টের ফ্যাশনে বেশ মজেছেন। সাফিয়া সাথী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ফুলের প্রিন্ট চিরকালের। উজ্জ্বল রঙের ফুল পরিধানকারীকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে। ফুলেল প্রিন্ট ব্যবহার হতে পারে সব ধরনের পোশাকেই। আর বিশ্বজুড়ে এখন পরিবেশ বাঁচানোর আকুলতা। এ সময়ে প্রাকৃতিক উপাদান পোশাকের মোটিফ হলে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা হবে দৃশ্যমান।’ 

ফ্যাশন ট্রেন্ডের প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই সচেতনতার ছোঁয়া লেগেছে। তরুণীরা মনের দিক থেকে নয়, শুধু বাহ্যিকতাতেও সুন্দরের প্রকাশ করছেন।

মডেল                   তামান্না

পোশাক ডিজাইন       সাফিয়া সাথী

মেকআপ                সোনিয়া খান

ছবি                      রনি বাউল