ব্রহ্মপুত্রের পানি নিয়ে চীনের হুঁশিয়ারির জবাবে হেমন্ত বিশ্বশর্মার কড়া প্রতিক্রিয়া

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৫, ১৭:২৮

ভারতের আসাম রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা দাবি করেছেন, ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি চীন কমালে ভারতের ক্ষতির বদলে লাভই হবে। এতে আসামে বন্যার সমস্যা কমবে, জনজীবন ব্যাহত হবে না এবং সম্পত্তির ক্ষতিও হবে না। সম্প্রতি চীনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা পাকিস্তানের প্রাপ্য পানি ভারত বন্ধ করলে চীনও ভারতের পানি বন্ধ করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যা নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

বিজেপি নেতা দাবি করেন, ব্রহ্মপুত্র নদ কেবল একটি প্রবাহ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়। নদীর মোট পানির ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ অংশ চীনের, বাকি ৭০ শতাংশ আসে অরুণাচল প্রদেশ, আসাম, নাগাল্যান্ড ও মেঘালয় থেকে। ভারী বর্ষার পানিও এই নদকে ভরপুর করে রাখে। পাহাড় থেকে নেমে আসা ছোট ছোট নদীগুলোর পানি ব্রহ্মপুত্রে মিশে নদীর শাখাগুলোকে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করে। হেমন্ত বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র ভারতে ফুলে ফেঁপে ওঠে, শুকিয়ে যায় না। তাই চীন পানি প্রবাহ কমালেও ভারত ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।’

চীনের তিব্বত রাজ্যের হিমালয় পর্বতমালার কৈলাস শৃঙ্গের নিকট জিমা ইয়ংজং হিমবাহে ব্রহ্মপুত্র উৎপত্তি হয়ে ভারতে প্রবেশ করছে। ছবি: সংগৃহীত

চীনের দাবিকে অস্বীকার করে তিনি বলেন, ব্রহ্মপুত্রের পানির প্রধান উৎস বৃষ্টি, যা ভারতের অরুণাচল প্রদেশ ও আসামের ওপর নির্ভরশীল। নদীর পানি চীনের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর নয়। তিনি জানান, চীন-ভারত সীমান্তে ব্রহ্মপুত্রের পানি প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে ২ থেকে ৩ হাজার কিউবিক মিটার হলেও তা গুয়াহাটিতে বেড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার কিউবিক মিটার হয়।
হেমন্ত পাকিস্তানকে সতর্ক করে বলেন, একটি মাত্র প্রবাহ দিয়ে ব্রহ্মপুত্রকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। নদীর প্রাণশক্তি হলো ভারতের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, মৌসুমি বৃষ্টি।

পানির প্রবাহ কমানোর হুমকি সম্পর্কে তিনি বলেন, যদি চীন পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে তাহলে আসাম ও ভারতের বন্যা কমবে, লাখো মানুষের জীবন নিরাপদ থাকবে এবং সম্পত্তি রক্ষা পাবে। তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া 

ইত্তেফাক/টিএস